মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ ইং

অহিদুর রহমান চৌধুরী

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৫০

নিশ্চিন্ত থাকুন, নেতা!

আমি বরাবরই আশাবাদী মানুষ। সবসময়ই বিশ্বাস করি যা হয়েছিল ভালোর জন্যই হয়েছিল, যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে এবং যা হবে ভালোর জন্যই হবে। আলো যতই প্রখর হোক, অন্ধকার যেমন আসবেই; তেমনি অন্ধকার যতোই গভীর হোক আলো ফুটবেই।

হ্যাঁ, প্রিয় দাদা, প্রিয় অভিভাবক, বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের সাবেক এমপি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রাণভ্রোমরা খ্যাত সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীকে নিয়েই লিখছি। আপনার-আমার শরীরে একই পূর্বপুরুষের রক্ত প্রবহমান। সেই ছোটবেলা থেকেই আপনার একই ধ্যান-জ্ঞান দেখে আসছি- আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ। দলের প্রশ্নে, নীতির প্রশ্নে, সততার প্রশ্নে এমন আপোষহীন রাজনীতিবিদ আজকালকার রাজনীতিতে দুর্লভ! আপনি সেই দুর্লভ প্রজাতির একজন! সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দল-মতের ঊর্ধ্বে সবাই ধরেই নিয়েছিল একমাত্র আপনার মূল্যায়নই অবধারিত! বিধি বাম, সোজা কথায়- রাজনীতির মারপ্যাঁচে আপনি অবমূল্যায়িত হয়েছেন। অতঃপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন, সেখানেও কর্মী-সমর্থকেরা আশায় বুক বাঁধেন; নিশ্চয়ই আপনি মূল্যায়িত হবেন! এবারও ফলাফল অভিন্ন! আপনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আবারো অবমূল্যায়িত!

পদ-পদবির রাজনীতিতে বিজয় অর্জনে আপনি বিফল হলেও, আপনার এই বিফলতাই প্রমাণ করে দিয়েছে আপনি কোন সিন্ডিকেটের নেতা নন, বরং আপনি আমজনতার নেতা, আপনি তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রাণ, কর্মী-সমর্থকদের নিশ্চিন্ত ভরসা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার স্থল।

আপনি সাধারণ মানুষের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য ছিলেন এবং আছেন তা আপনার জন্য সিলেটের গণমানুষের হাহাকার আর অভিব্যক্তিতেই প্রমাণিত! এমন পাওয়া ক'জনা পায়? এমন ভাগ্য ক'জনার হয়? আপনাকে কেউ চোর, বাটপার, দুর্নীতিবাজ, লোভী, পার্সেন্টেজখোর, ঘুষখোর, গ্রুপিংবাজ, স্বার্থপর ইত্যাদি কোনকিছু বলারই কোন সুযোগ পায়নি! এই সকল দিক থেকে আপনার ধারে কাছেও কেউ নেই!

পদ-পদবি তো আজ আছে কাল নেই! কিন্তু সম্মান, ভালোবাসা, ইজ্জত? আজীবন মেয়াদ! আমি কেন বলি আপনি অনেকেরই ঊর্ধ্বে? আজ যারা পদ-পদবি পেয়েছেন, তাদের যোগ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। আপনার আজ পদ-পদবি নেই তো কী হয়েছে? তারা পদ-পদবি পেয়ে কি আপনার ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন? এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই! পদ-পদবি পেতেই বা কতক্ষণ আর যেতেই বা কতক্ষণ? বরং আপনার উচ্চতায় পৌছাতে হলে সিলেটের স্থানীয় ও জাতীয় পদ-পদবি প্রাপ্ত নেতাদের আরও বহু পথ পাড়ি দিতে হবে!

আপনি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সাবেক এমপি। বিএনপির তুমুল জনপ্রিয় ও অকুতোভয় রাজনীতিবিদ এম ইলিয়াস আলীকে হারানো রাজনীতিবিদ আপনি! সারাদেশে বিএনপির একটি আসন নিশ্চিত ছিল যা ছিল ইলিয়াস আলীর আসন। সেই ইলিয়াস আলীর দর্প চূর্ণ-বিচূর্ণ করা বিজয়ী বীর আপনি! অতঃপর পর পর দুইবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েও দল ও দেশের স্বার্থে নিশ্চিত বিজয় জেনেও বিদ্রোহী প্রার্থী না হয়ে নেত্রীর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলীয় আনুগত্যের নজির স্থাপনকারী ব্যক্তিত্ব আপনি! এমন বীর আছে ক'জনা? এমন ত্যাগ করার মতো বিশাল হৃদয় ও বুকের পাঠা আছে ক'জনার? এজন্যই আপনি অনন্য-অসাধারণ-অদ্বিতীয়! তাই আপনার সমপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সবার কম্ম নয়!

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান সাহেব মারা যাওয়ার পর আপনি একাই পুরো সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে টেনে নিয়ে গেছেন। কোন গ্রুপিং-সিন্ডিকেট আপনাকে বশ করতে পারেনি, রাজনীতিকে কেউ ব্যবসায় পরিণত করতে পারেনি। সিলেট আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ভিত্তি আপনিই রচনা করে দিয়েছেন। তাই পদ-পদবি না থাকলেও সিলেট আওয়ামী লীগের ট্রেন আপনাকে ছাড়া চলবে না! সিলেট জেলার নতুন নেতৃত্ব ঠিকই আপনার সহযোগিতা-অভিজ্ঞতা-পরামর্শের দ্বারস্থ হবে বলেই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।

মানুষ যতোই জ্ঞানী হোক, মানুষের ভাবনার অনেক উপরে আরেকজন সর্বশ্রেষ্ঠ ভাবনা ভেবে থাকেন, তিনি নিশ্চয়ই যা ভেবে রেখেছেন, তা-ই আপনার জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক।

প্রিয় অভিভাবক, আপনি ভালো থাকুন, নিশ্চিন্ত থাকুন, নির্ভার থাকুন। সময়ই আপনাকে আপনার যথাস্থানে পৌঁছে দেবে, ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা।

  • অহিদুর রহমান চৌধুরী: অ্যাডভোকেট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত