০৫ মার্চ, ২০১৯ ২০:১৮
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অচল রয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু)। নির্বাচনের মাধ্যমে অচল শাকসুকে পুনরায় সচল করার দাবি তুলেছে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
অবিলম্বে নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাযিরুল আজম বিশ্বাস, সদস্য ইউশা রশিদ ইফাজ, মুহম্মদ মঈনুদ্দিন মিয়া, তৌহিদুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ ২১ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের প্লাটফর্ম শাকসুকে অচল করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্র স্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত, নীতিমালা বা কৌশলপত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই একে অচল করে রাখা হয়েছে। দফায় দফায় বেতন ফি, ক্রেডিট ফি বৃদ্ধি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক নিয়ম চালু এবং শিক্ষাকে ক্রমাগত বাণিজ্যিক ও বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে এমনটা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের নানামুখী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বাঁধা সৃষ্টি করাসহ ক্ষমতাসীন দলের সংগঠন এর দখলদারিত্ব ও আধিপত্যের বিস্তারকে শাকসুর নির্বাচন না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
শাখা ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রুদ্র বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দাবি আদায়ের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে শাকসু। সেই প্রায় ২১ বছর থেকে বন্ধ রয়েছে। শিগগির নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের সেই গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চাই।
শাকসু’র নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, শাকসু’র প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৯৩ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বমোট ৫বার শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ২৫ শে আগস্ট এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২১ বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়াই অচল হয়ে আছে শাকসু।
২১ বছর ধরে শাকসু নির্বাচন না হলেও প্রতি সেমিস্টারে নির্দিষ্ট হারে ফি দিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তরসূত্রে জানা যায়, শাকসু’র জন্য ২০০০ সালে নির্ধারিত ফি ছিল ৩৭ টাকা। বিগত দুই দশকে ৮ দফায় সেই ফি বাড়িয়ে ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা করে।
শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউনিয়নি ফি বাবদ জমা হওয়া সেই টাকা কোন কাজে ব্যয় করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন?
এ বিষয়ে যোগাযোগ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
সকল ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান,মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শিগগির শাকসুর নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান প্রসেনজিৎ রুদ্র।
আপনার মন্তব্য