নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ জানুয়ারি, ২০১৫ ১৮:৩৩

গণপরিবহনে আর টিকেট নয়!

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরীতে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস।
 
এর সঙ্গে প্রতিবছর ঢাকা শহরে ৫ ভাগ হারে মানুষ বাড়ছে এবং ২০২০ সাল নাগাদ এ শহরে জনসংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছাবে। এর ফলে নগরীতে যানজট অন্যতম সমস্যা। এতে করে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মূল্যবান সময় পথেই নষ্ট হচ্ছে নগরবাসীর।
 
এর ওপরে গণপরিবহনে উঠতে গিয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনা ও সময়ের অপচয় হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)। এর মধ্যে অন্যতম সমস্যা গণপরিবহন ব্যবহার করার আগে টিকেট সংগ্রহ করা।
 
ডিটিসিএ সূত্র জানায়, যানজটের শহরে যাত্রীদের গণপরিবহন ব্যবহার করার জন্য বার বার টিকেট কাটার জন্য সময় ব্যয় ও ঝামেলা পোহাতে হয়। অন্যদিকে, সঠিকভাবে ভাড়া আদায়ও হয় না।
 
ডিটিসিএ সূত্র আরো জানায়, নগরবাসীকে টিকেট কাটার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে ইলেকট্রনিক চিপ সম্বলিত প্রিপেইড কার্ড দেওয়া হবে। এর ফলে একজন যাত্রী যে কোনো গণপরিবহনে এই কার্ডটি ব্যবহার করতে পারবেন।
  
এতে করে যাত্রীদের টিকেট কাটার জন্য আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের হাতে  ইলেকট্রনিক চিপ সম্বলিত প্রিপেইড কার্ড দেওয়া হবে।
 
‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ক্লিয়ারিং হাউজ ফর ইন্ট্রিগ্রেটিং ট্রান্সপোর্ট টিকেটিং সিস্টেম ইন ঢাকা সিটি এরিয়া’-য় ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে, ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দেবে ৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। 
 
২০১৪ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০১৭ সালের জুন নাগাদ কাজ বাস্তবায়ন করবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

ডিটিসিএ সূত্র জানায়, ঢাকা শহরে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য ক্লিয়ারিং হাউজ প্রতিষ্ঠা করাও প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে করে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা টেকসইয়ের সঠিক রাজস্ব আদায় ও গণপরিবহন সুসংহত হবে।
 
ডিটিসিএ সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার এবং জাইকার মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়।
 
প্রকল্পের আওতায় বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক অর্থায়নে ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
 
রাজধানীতে মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি), বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও বাংলাদেশ রেলওয়ে ইলেকট্রনিক চিপ সম্বলিত প্রিপেইড কার্ড দেওয়া হবে বলে জানায় ডিটিসিএ।
 
ইতোমধ্যে, মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা থেকে টঙ্গী লাইনের একটি ট্রেনেও এই কাজ কিছুটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। 

ডিটিসিএ সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীতে যখন ২০২০ সালে এমআরটি চালু হবে, তখন সবাইকে ইলেকট্রনিক চিপ সম্বলিত প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করতে হবে। এতে করে আর কোনো টিকেট কাটার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
 
ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক কায়কোবাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, নগরীতে গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের হাতে ইলেকট্রিক চিপ সম্বলিত প্রিপেইড কার্ড দেওয়া হবে। এতে করে আর কোনো টিকেট কাটার ঝামেলা পোহাতে হবে না। 

তিনি বলেন, এমআরটি, বিআরটি পরিবহন ব্যবস্থায় এটি চালু করা হবে। তবে আমরা রেলওয়েতেও এই ব্যবস্থা চালু করার কাজ হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিয়েছি।
  



আপনার মন্তব্য

আলোচিত