০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ১১:২০
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, লন্ডনে অবস্থানরত দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যন তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। রিজভী জানান, তিনি নিজে সহিংস আন্দোলনের পক্ষে নন। পেট্রোল বোমা হামলার পর দগ্ধ মানুষের আহাজারি দেখে তার গা শিউরে ওঠে বলে জানান রিজভী। গত ২৬ জানুয়ারি গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে বাড্ডা থানার একটি মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে রিজভীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।
জিজ্ঞাসাবাদে রিজভী আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির অনেক নেতা গ্রেফতার আতঙ্কে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে। অ্যাপোলো হাসপাতাল ছাড়ার পর তাই তিনি প্রায় নিয়মিত গণমাধ্যমে বিবৃতির মাধ্যমে দলের অবস্থান জানিয়ে আসছিলেন। বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতাই সহিংস আন্দোলনের পক্ষে নন বলে দাবি করেন তিনি। ২০ দলীয় জোটকে সমাবেশ করার অনুমতি না দেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন রিজভী।
রিজভী আরও বলেন, নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর কৌশলে তিনি পালিয়ে যান। এরপর উত্তরা, গুলশান, বারিধারা এলাকার বিভিন্ন বাসায় ছিলেন। 'আত্মগোপনে' থাকার সময় জরুরি প্রয়োজনে কখনও বাইরে গেলেও চাদর মুড়ি দিয়ে গাড়িতে বসে থাকতেন।
কার মাধ্যমে তারেক রহমানের নির্দেশনা আসে_ জানতে চাইলে রিজভী জানান, অনেক নেতার সঙ্গে তারেক রহমানের সরাসরি কথা হয়। অনেক সময় বিশ্বস্ত লোকের মাধ্যমে ম্যাসেজ পাঠান।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দারা। ফালু জানান, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মালয়েশিয়া থেকে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে কোকোর মরদেহসহ দেশে ফেরেন। চলমান আন্দোলনে সহিংসতার ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। আবার তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় খিলগাঁও থানার একটি মামলায় ফালুকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। গতকাল রিজভী আহমেদ ও ফালুকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পল্টন থানার একটি মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।
চলমান সহিংস আন্দোলনের নেপথ্য অর্থদাতাদের নাম জানতে চান গোয়েন্দারা। উত্তরে বিএনপির তিন নেতাই জানান_ অর্থদাতাদের ব্যাপারে তাদের কিছু জানা নেই ।
আপনার মন্তব্য