সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ মার্চ, ২০২৬ ২০:৪৬

যাত্রী নিয়ে নদীতে ডুবে গেল বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে যাত্রী নিয়ে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। এতে হতাহতের শঙ্কার কথা বলেছে বিআইডব্লিউটিসি।

সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায় বলে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের এজিএম সালাহউদ্দিন জানান।


বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে ৪০ জনের মতো মরদেহ পানির নিচে রয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

এদিকে বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, “ঢাকাগামী বাসটিতে ৪০ এর অধিক যাত্রী ছিল বলে জানতে পেরেছি। হতাহতের শঙ্কা আছে। ”

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। ঘাটে এসে বাসটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ছিল। সেখান থেকে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে পাঁচ থেকে সাতজন সাঁতরে তীরে উঠে আসেন।

বাসটিতে কতজন যাত্রী ছিল- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘাটের কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, বাসটিতে হয়ত ৪০ জনের মত ছিলেন।

বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি পড়ার মুহূর্তে পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন সেদিকে দৌড়ে যান। বাসটি ডুবে যাওয়ার পর সেখান থেকে কয়েকজন ভেসে ওঠেন। তখন পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন তাদের দিকে রশি ও লাইফবয় ফেলেন। তারা সেটি দিয়ে ধরে ওঠে আসেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া বাসের আরোহীদের ভাষ্যমতে, ওই বাস থেকে পাঁচ থেকে সাত যাত্রী শুরুতেই বের হতে পেরেছেন।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, পানির নিচে বাস শনাক্ত করা গেছে। বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী যান ‘হামজা’র সহযোগিতায় বাসটি উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত