রাইআন কাব্য

০২ জানুয়ারি, ২০১৫ ১০:৫৭

৭দফা প্রস্তাব দিয়ে "আপোষহীন" নেত্রির আপোষের চেষ্টা!

রাতে হুট করে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া যে উত্তেজনার বীজ বপন করেছিলেন ৩১ ডিসেম্বরের সংবাদ সম্মেলনের পর সে উত্তেজনা হাওয়ায় মিইয়ে গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে বেগম জিয়া হাঁটলেন আপোষের পথে।


বেগম খালেদা জিয়ার সাত দফা প্রস্তাব নিয়ে দলের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে আন্দোলন থেকে পিছু হটা বললেও বেগম জিয়া দলের প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তিমত্ত্বা আমলে নিয়েই কৌশলি পথে হেঁটেছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।


গত ছয় বছরে বিএনপির আন্দোলন ছিল নয়াপল্টনের পার্টি অফিসে বসে রুহুল কবীর রিজভির হুংকার আর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ক্যামেরা সামনে এসে গুছিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য। তাদের এই আন্দোলন কৌশল নেতাকর্মিদের মাঠে নামাতে পারেনি। উপরন্তু দলের মধ্যেই তৈরি করে দিয়েছে তীব্র মতবিরোধ।


ঢাকা মহানগর বিএনপি গত ছয় বছর মাঠে নামেনি, মাঠে নামতে পারেনি জাতীয়তাবাদী ছাত্র। অথচ এই জায়গা থেকে সবচেয়ে বেশি আশা করেছিল বিএনপি হাইকমান্ড। ঢাকা মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলে নতুন মুখ আসলেও তারা দলের মধ্যেই তীব্র বিরোধিতার সম্মুখিন। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্রদল দাঁড়িয়ে আছে, বিএনপির বিরুদ্ধে বিএনপি। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন অসহায় হয়ে পড়েছেন। ফলে আন্দোলন থেকে পিছু হটা ছাড়া তার আর কোন উপায় ছিল না। 


৩১ ডিসেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও বর্তমান আরপিও সংশোধন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর সম্মতিতে গঠিত’ নির্দলীয় সরকারের হাতে দায়িত্ব দেওয়াসহ সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এই সাত দফার মধ্যে নতুন কিছু নেই, এগুলোই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এতদিন বলা হচ্ছিল।


২১০৩-২০১৪ সালে বিএনপির রাজনীতি ক্যামেরা ট্রায়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা অংশ না নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক বিএনপি নেতাও মনে করেন সেটা ছিল তাদের মহাভুল।


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কথা বলছে বিএনপি। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার এই দাবি কোনভাবেই মেনে নেবে না। রাজপথে নামার মতো সাংগঠনিক শক্তি নেই বিএনপির, তার ওপর বিষফোঁড়া হয়ে আছে তারেক রহমানের দেশের বাইরে থেকে অনর্গল ইতিহাস বিকৃতি- যা জনমতের ওপর প্রভাব ফেলছে গভীরভাবে।


এই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন করে নমনীয় সুরে সাত দফার প্রস্তাব করে দেশের রাজনৈতিক আলোচনা তাঁর দিকে নিয়ে আসার একটা চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া আবারও চাইছেন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রথমাবস্থায় অনেক দেশ সে নির্বাচনকে সমর্থন সমর্থন না দিলেও অনেক দেশ সমর্থন দিয়েছে এবং সমর্থন না দেওয়া দেশগুলো এই এক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও অন্যান্য বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। 


অনেকের ধারণা গাজীপুরে সমাবেশ করতে না পারা, নেতাকর্মিদের রাজপথে নামাতে না পারাসহ   সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার মানসিকতার বিপরিতে আন্দোলনের করুণ অবস্থায়  হতাশ হয়ে বেগম খালেদা জিয়া আপোষের পথে হেঁটেছেন। আপোষহীন নেত্রির এই আপোষের পথে হাঁটাকে বিএনপির রাজনীতির জন্যে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অনেকে। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত