১৩ মে, ২০১৬ ০১:১২
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের প্রতিক্রিয়া জানাতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব করার পর ঢাকাও একই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঢাকায় পাকিস্তানের হাই কমিশনার সুজা আলম বৃহস্পতিবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হলে সচিব (দ্বিপক্ষীয় ও কনস্যুলার) মিজানুর রহমান পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার হাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি কূটনৈতিকপত্র প্রতিবাদপত্র তুলে দেন।
এতে বলা হয়, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো অপরাধে দণ্ডিতদের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সেইসব অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততারই প্রমাণ দিচ্ছে।”
বেরিয়ে যাওয়ার সময় সুজা আলম সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের জনগণের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে’ বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এর আগে দুপুরের দিকে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. নাজমুল হুদাকে তলব করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে বলা হয় নিজামীর দণ্ড কার্যকর নিয়ে পাকিস্তান ‘খুবই উদ্বিগ্ন’।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে মতো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়টিতে নাক না গলাতে ঢাকার পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও ইসলামাবাদ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।
বুধবার প্রথম প্রহরে জামায়াত আমির নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর এর নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জামায়াত আমিরের একমাত্র অপরাধ ছিল, তিনি ‘পাকিস্তানের সংবিধান ও আইন সমুন্নত’ রাখতে চেয়েছিলেন।
নিজামীর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মো. কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়ও একই প্রতিক্রিয়া এসেছিল পাকিস্তান থেকে।
নিজামী ছিলেন একাত্তরে আল বদর বাহিনীর নেতা, যে বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নকশা বাস্তবায়ন করেছিল। আদালতের বিচারে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা হিসেবে দোষি সাব্যস্ত হন নিজামী।
তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে বুধবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস করে এবং বাংলাদেশের এই ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাটির’ প্রতি দৃষ্টি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এরপর বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাজমুল হুদাকে তলব করা হয়।
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস কাউন্সিলর মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “তারা ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে তাদের বিবৃতি পড়ে শুনিয়েছে। পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাসের কথা জানিয়ে বলেছে, তারা উদ্বিগ্ন।”
নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় ওআইসির দেশগুলোও ‘উদ্বিগ্ন’ দাবি করে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির কথাও বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে বলা হয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।
“পাকিস্তান বলেছে, তারা চায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসরণ করুক।
“ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার জবাবে তাদের জানিয়েছেন, নিজামীর দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী। সব আইন মেনেই তার বিচার করা হয়েছে।”
প্রেস কাউন্সিলর বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার বলে এসেছেন, একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশের বিচার নিয়ে পাকিস্তান এভাবে কটাক্ষ করতে পারে না। চুয়াত্তরের চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান অপব্যাখ্যা দিচ্ছে বলেও তিনি জানিয়ে এসেছেন।”
আপনার মন্তব্য