১৯ মে, ২০১৬ ০০:৪০
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যান্দীতে অবস্থিত পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলাম। তবে প্রয়োজনে শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্বপদে ফেরাতে আপত্তি নেই তার।
ফারুকুল মনে করেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ষড়যন্ত্রের শিকার আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচিত হচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
ফারুকুল মনে করেন, এক ছাত্রকে মারধরের বিষয়টি সঠিক হলেও প্রধান শিক্ষকের ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগটি ছিল সংশয়পূর্ণ। তবে ওই দিন প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে রিফাত নামের ওই ছাত্র ও তার মা ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে আরও ১০-১২ জন ছাত্রকে সাফাই সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করায়। আর বাইরে এ বিষয়ে গুজব রটিয়ে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করানো হলে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।আর এ ঘটনার সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির গুটিকয়েক সদস্য জড়িত।
ফারুকুল ইসলাম বলেন, ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং কিছু গ্রামবাসী সেখানে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তারা মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত এবং আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারা এলাকাবাসীর কাছে অভিযোগ করে প্রধান শিক্ষক এবং আমি ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলি।
তিনি বলেন, গত শুক্রবার ম্যানেজিং কমিটির বৈঠক চলছিল। এসময় স্থানীয় কয়েকটি মসজিদের মাইক থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ আনা হয়। একথা শুনে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে এবং প্রধান শিক্ষককে মারধর করতে থাকে। আমিসহ কয়েকজন তাদের হাত থেকে প্রধান শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা করি। এসময় তারা আমাকেও আঘাত করে। আমিও আহত হই। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে আমি পুলিশে খবর দেই। কিন্তু, পুলিশও তাদের সামলাতে ব্যর্থ হয়। তখন তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, পুলিশ সুপারকে ডাকে। সব শেষে ডাকা হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে। সেলিম ওসমান সাহেব জনতার রোষ থেকে প্রধান শিক্ষককে রক্ষা করেন। তিনি ওই প্রধান শিক্ষককে কানে ধরান, তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন, স্কুলের কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকেও অপসারণ করা হবে বলে সতর্ক করে দেন... ইত্যাদি কাজ সে মুহুর্তে করেন তিনি। সবই করেন প্রধান শিক্ষককে জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য, তবে স্বীকার করি সে মুহূর্তে তিনি যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলেন তার কিছু কিছু আইনত হয়তো সঠিক হয়নি। অন্য রকম হলে ভালো হতে পারতো। বিতর্ক এড়ানো যেতো। সে সময়ে অনেক সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমপির নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমাদের (ম্যানেজিং কমিটিকে) প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে বলেন। আমরা সে সিদ্ধান্ত পালন করেছি। এ ঘটনার পরদিন নারায়ণগঞ্জের সবগুলো সংবাদপত্রে এ খবর প্রকাশিত হয় যদিও এর অনেকগুলোই মনগড়া খবর ছেপেছে। আমার মনে হয়, ধর্মান্ধ মানুষ যে কোনও কিছুই ঘটাতে পারে।
ফারুকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে জনতার রোষ থেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলেই তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন এমপি মহোদয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার সে অনুযায়ী আমাদের (ম্যানেজিং কমিটিকে) ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। আমরা ওইদিনই এ আদেশ পালন করি।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
আপনার মন্তব্য