২০ মে, ২০১৬ ১১:২৫
দেশে চলমান ভিন্নমতের মানুষের হত্যাকাণ্ডকে 'বিচ্ছিন্ন' আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটনা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাতে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় হোটেল মারিনেলায় বুলগেরিয়ায় বসবাসরত বাঙালিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিচ্ছিন্ন যে ঘটনাগুলো ঘটে সেগুলো পরিকল্পিত। যখনই কোনো যুদ্ধাপরাধীর বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়, তখনই তার আগে-পিছে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
যারা এ ধরনের কাণ্ড করে তাদের এরই মধ্যে আমরা ধরতে শুরু করেছি। তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশে সব ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে সরকার-উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শুধু বিচারই বন্ধ করা হয়নি, পুনর্বাসন করা হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের। যারা যুদ্ধাপরাধের শাস্তি পেয়েছিলো তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করা হয়েছে। যারা পালিয়ে আছে তাদের ট্রেস করা যাচ্ছে না। আমরা কেউ ভাবিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে। ’৯৬ সালে আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করি। বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনাল করিনি। স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থায় বিচার করা হয়েছে। আমরা শাস্তি নিশ্চিত করেছি। আর যারা পলাতক তাদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ও ’৭৫ পরবর্তী সময়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা স্বাধীনতার ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে আড়াল করতে চেয়েছে। ইতিহাস বিকৃত করেছে।
ইতিহাস বিকৃতি রোধে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এখনকার প্রজন্ম যাতে সঠিক ইতিহাস জানতে পারে সে ব্যবস্থা করেছি।
এ সময় তিনি বিগত সময়ে সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০১৩-১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত বিনা কারণে তাণ্ডব চালিয়েছিল। নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য তারা এ তাণ্ডব চালিয়েছিল, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। আমরা সেগুলো কঠোর হাতে দমন করেছি।
এসময় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বুলগেরিয়ায় বসবাসকারীদের জন্য ‘কনস্যুলার সার্ভিস’ চালুর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ সময় আসছে জুন মাসের মধ্যে বুলগেরিয়ায় বাঙালি প্রবাসীদের ভিসাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দেন।
এ সময় অনেকের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী সফরসঙ্গীদের নিয়ে বুলগেরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত ডিনারে অংশ নেন।
আপনার মন্তব্য