২০ মে, ২০১৬ ১৬:৫৩
নারায়ণগঞ্জে লাঞ্ছিত সেই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসার পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণও রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার (২০ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ জাকারিয়া ওই শিক্ষককে ঢাকায় স্থানান্তরের তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের দায়িত্বরত ডাক্তারের নির্দেশে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢামেকের মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ড ভর্তি আছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহমান ও শিক্ষক শ্যামল কান্তির পরিবারের লোকজন তাকে ঢামেকে নিয়ে আসেন।
ঢামেকের মেডিকেল অফিসার ডা. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের শারীরিক অসুস্থতা এবং মাথায় ব্যথা অনুভব করার কারণে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিস্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্যামল কান্তিকে নারায়ণগঞ্জে রাখা অনিরাপদ। বিভিন্ন মহল থেকে তাকে হুমকী দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এ কারণে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে শ্যামল কান্তিকে।
ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ এনে গত ১৩ মে পিয়ার সাত্তার লতিফ জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শত শত মানুষের সামনে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এ কে এম সেলিম ওসমান। শুধু তা-ই নয়, জনতার উদ্দেশে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতেও নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষককে অপদস্থ করার সময় মোবাইল ও ভিডিও ক্যামেরায় সে দৃশ্য ধারণ করে অনেকে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছেড়ে দেয়া হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিম ওসমান নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওই শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করাচ্ছেন। আর এই দৃশ্য দেখে সামনের জনতা উল্লাস করছে। অনেকেই শিস দিচ্ছে। এর মধ্যে সমস্বরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
ওই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে আনীত কটূক্তির অভিযোগ অসত্য। ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদও বাতির করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আপনার মন্তব্য