সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ মে, ২০১৬ ১৮:০৬

১৭ প্রাণ কেড়ে নিয়ে উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করেছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এই ঝড় কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানার পর এখন উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে চট্টগ্রামের কাছ দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়টি পরবর্তী চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে প্রবল বৃষ্টি ঝরিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলো অতিক্রম করবে এবং ভারতের দিকে অগ্রসর হবে বলে আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে এ ঝড়ের প্রভাবে খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোর বেশিরভাগ গ্রাম জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। প্রচণ্ড দমকা ও প্রবল বৃষ্টিপাতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামে ৮ জন, নোয়াখালীতে ৩ জন, ভোলায় ২ জন, কক্সবাজারে ২ জন, লক্ষ্মীপুরে ১ জন ও পটুয়াখালীতে আরও একজন নিহত হন।

অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধস, নৌকাডুবি, ঘর চাপা, গাছ চাপা ও দেয়াল চাপা পড়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।



আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। রোয়ানু চট্টগ্রম উপকূলের সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, সীতাকুণ্ড ও ফেনী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে উঠে এসেছে।”

তিনি জানান, উপকূলের কাছাকাছি আসার পর এ ঘূর্ণিঝড় দ্রুত স্থলভাগের দিকে এগোতে শুরু করে। ঝড়ের পুরো পরিধি স্থলভাগে উঠে আসতে বিকাল পেরিয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে বইছে ঝড়ো বাতাস, সেই সঙ্গে চলছে বৃষ্টি।

উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে।

সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, উপকূল অতিক্রম করার সময় ভারি বৃষ্টি ঝরিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।



আবহাওয়া অধিদফতরের দুপুর ১২টার বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১০০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে চট্টগ্রামের কাছ দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে এবং এরই মধ্যে উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ দুপুরে ছিল ঘণ্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে সাত নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রয়েছে। এছাড়াও উপকূলীয় জেলাগুলো এবং সাগরসংলগ্ন দ্বীপ ও চরগুলোতেও সাত নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রয়েছে। তবে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এদিকে, রোয়ানু ঝড়ের প্রভাবে এরই মধ্যে সাগরবর্তী গ্রামগুলো ৪ থেকে ৫ ফুট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়ে গেছে। কুতুবদিয়া উপজেলার বেশিরভাগ অঞ্চল এ মুহুর্তে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ বাসিন্দাকে।

রোয়ানু’র প্রভাবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশঙ্কা জানিয়ে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত