সিলেটটুডে ডেস্ক

২২ মে, ২০১৬ ২২:২৮

শিক্ষক লাঞ্ছনা : ‘বিব্রত’ জাতীয় পার্টি, এরশাদের ‘শরণাপন্ন’ সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়া সংসদ সদস্য এ কে এম রোববার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাথে দেখা করেছেন।

এইচএম এরশাদের সাথে দেখা করে সেদিনের ঘটনার ব্যাখা দেন সেলিম ওসমান। এসময় তিনি দলীয় চেয়ারপার্সনের কাছে লিখিত বক্তব্য তুলে দেন, সাথে একটি ভিডিও দিয়েছেন তিনি। বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দলের নীতি নির্ধারকদের সভায় ওই বক্তব্য পর্যালোচনা করে সেলিম ওসমানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার।

আরও পড়ুন- ‘লজ্জা থাকলে’ সংসদে যাবেন না, সেলিম ওসমানকে নাসিম

গত কদিন ধরে সেলিম ওসমানকে নিয়ে সমাজের প্রায় সর্বস্তরে আলোচনা-বিতর্কের ঝড় চললেও তার দল জাতীয় পার্টি কিছু বলেনি।

সেলিম ওসমানকে নিয়ে জাতীয় পার্টির অবস্থান আসলে কি- জানতে চাইলে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, 'দেশের বেশিরভাগ মানুষ যেটা ভাবেন সেটা বিবেচনা করেই দল পরিচালিত হয়। জনগণের সেন্টিমেন্টকে সম্মান জানানো এবং তাদেরকে সাথে রাখা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।'

তিনি বলেন, 'এমপি সাহেবকে নিয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান আমাদের নেতার সাথে দেখা করে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। প্রেসিডিয়ামের সভায় এটা নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার পরেই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জানান, খুব শিগগিরই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। 'এমাসের মধ্যেই কিম্বা তার আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে'- বলেন তিনি।

তবে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান কি ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেবিষয়ে তিনি কিছু বলেন নি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, বলেন, 'এই ঘটনায় জাতীয় পার্টি কিছুটা বিব্রত।'

দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে কী-না এই প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, 'এই ঘটনায় আদালত তদন্ত করতে বলেছে। তাই এবিষয়ে কিছু মন্তব্য করতে চাই না।'

তবে তিনি জানান, বিষয়টিকে তারা বেশ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ১৩ মে সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে বন্দর উপজেলার কল্যান্দী এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে মারধরের পর কান ধরে উঠবস করানো হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। সেলিম ওসমানের পদত্যাগও দাবি করেছেন অনেকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত