সিলেটটুডে ডেস্ক

২৪ মে, ২০১৬ ১১:১৬

বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার নয়: নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ আপীল বিভাগের

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের  নির্দেশনার বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল খরিজ করে রায় দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষেই আপিলের রায় আসলো।

তবে আদালত বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ে যেসব নির্দেশনা ও সুপারিশ করা হয়েছিল সেগুলো সংশোধন করে নীতিমালা আকারে প্রকাশ করা হবে। এই নীতিমালা সকলকে অনুসরণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল ৯টার পরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চ কিছু পর্যবেক্ষণসহ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

আদালত তার সংক্ষিপ্ত রায়ে বলেন, ডিসমিস। তবে কিছু মডিফিকেশন থাকবে। কিছু গাইডলাইন দিয়ে দেয়া হবে।

ফলে বিনা পরোয়ানা ও রিমাণ্ডের ধারা সংশোধনে হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার  আগে বুঝা যাবে না হাইকোর্টের রায়ের কোন অংশ থাকবে নাকি বাতিল করা হবে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার পরে ড. কামাল হোসেন বলেন, আপিল ডিসমিস হয়ে গেছে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। রায় পেলে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করবো কি আছে কি নাই। তাই এখন কিছু বলা যাবে না।

অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি আইন-শৃংখলা বাহিনী তা পালন করবেন।
এর আগে গত ১৭ মে হাইকোর্টের দেওয়া রায় চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তার শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজ (২৪ মে) দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।

হাই কোর্টের দেয়া নির্দেশনা সমূহ:
ক. আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না।
খ. কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।
গ. গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারণ জানাতে হবে।
ঘ. বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকট আত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।
ঙ. গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবী ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে।
চ. গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে কারাগারের ভেতরে কাচের তৈরি বিশেষ কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। ওই কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকট আত্মীয় থাকতে পারবেন।
ছ. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে।

ট. পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবে। বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

এসব নির্দেশনা ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল হাই কোর্টের সেই রায়ে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত