০৪ জানুয়ারি, ২০১৫ ১৯:২৭
তথ্য-সূত্র : বিডিনিউজ
গুলশানে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা খালেদা জিয়া সোমবার রাজপথে নামতে অনড় বলে তার সঙ্গে দেখা করে এসে এক সাংবাদিক নেতা জানিয়েছেন।
“তিনি (খালেদা) বলেছেন, ‘আমি এই অবৈধ সরকারের কোনো আদেশ মানি না। আমি কাল বেরুব, আমি রাস্তায় নামব,” বলেছেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।
শনিবার রাত থেকে গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশের বেষ্টনির মধ্যে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে রোববার বিকালে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
বিএনপি সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল গাজীর নেতৃত্বে সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, এম এ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, ইলিয়াস খান, কামার ফরিদ খালেদার সঙ্গে দেখা করে আসেন।
তার আগে বিকল্পধারা সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পুলিশ বাধা দিলেও আইনজীবী নেতাদের একটি দলকে ঢুকতে দেন।
দশম সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারি বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সেদিন সারাদেশে সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে।
ঢাকায় বিএনপিকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগও পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিলে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে পুলিশ সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
সেইসঙ্গে শনিবার রাতে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীকে বের করে আনার পাশাপাশি গুলশানে খালেদার কার্যালয় ঘিরে ফেলে পুলিশ।
তারপর থেকে সেখানেই অবরুদ্ধ রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন; যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তার নিরাপত্তার জন্য এই পদেক্ষপ নেওয়া হয়েছে।
রুহুল গাজী সাংবাদিকদের বলেন, “ম্যাডাম আন্দোলনে সব পেশার মানুষজনকে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। সবাই রাজপথে নামুন’।”
বিএনপির সমাবেশ কোথায় হবে- জানতে চাইলে রুহুল গাজী সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
এর আগে খালেদার সঙ্গে দেখা করে এসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “গণতন্ত্রের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা চলবে। সরকার পতন না হওয়া তা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।”
সাংবাদিক ও আইনজীবী নেতাদের ঢুকতে দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলকে আটকে দিয়েছে পুলিশ।
ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তারসহ ১০ জন শিক্ষক খালেদার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া। নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে চাইলে পুলিশ পথ আটকায়।
রাত পৌনে ১২টার দিকে খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য ব্যারিকেড সরাতে বলেন। কিন্তু তা না সরানোয় কিছুক্ষণ গাড়িতে অপেক্ষা করে ফের কার্যালয়ে যান তিনি। এরপর সেখানেই তার রাত কাটে।
আপনার মন্তব্য