সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৩০

গুলশান হামলার অর্থের যোগানদাতা চিহ্নিত : পুলিশ

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরায় হামলার ঘটনায় অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম একথা জানান।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নে মনিরুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করা গেছে। রোকনউদ্দিন খন্দকার নামে সিরিয়ায় পাড়ি জমানো এক চিকিৎসক জঙ্গি সংগঠনটিকে (নব্য জেএমবি) বিপুল অর্থ দান করে গেছেন।

তিনি বলেন, পুলিশি অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম তার অর্থ সংগঠনে দিয়েছেন। নিহত আরেক জঙ্গি তানভীর কাদেরী তার ফ্ল্যাট বিক্রিসহ সঞ্চিত অর্থ সংগঠনকে দিয়েছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশে থাকা জঙ্গি সদস্যের কাছ থেকেও অর্থ এসেছে। আরও অর্থদাতা থাকতে পারেন। তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

গত পহেলা জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই হামলায় ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরদিন সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেএমবির কারাবন্দি নেতাদের মামলার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংগঠনের খরচ মেটাতে এই জঙ্গি দলের ‘পুরনো অংশের’ সদস্যরা এখন ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে অস্ত্র, সোনা, টাকা ও বিপুল পরিমাণ ‘লুটের মাল’সহ সাত ‘জেএমবি’ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়া ৭ জঙ্গি সম্পর্কে বলেন, “এরা পুরনো জেএমবির সদস্য। মাওলানা সাঈদুর রহমান, আবু তসলিম তাদের নেতা। তারা এখন কারাগারে। এই নেতাদের মুক্ত করতে ভালো উকিল নিয়োগের জন্য টাকা সংগ্রহে এরা ডাকাতি করত।”

এই সাতজন হলেন- মো. কাশেম ওরফে কাউসার ওরফে কাশু (২০), নাজমুল হাসান নয়ন ওরফে নরেশ (২৩), মো. রাশেদ ওরফে কাকলির বাবা (২৭), মো. সেন্টু হাওলাদার ওরফে জাহিদ (২৬), মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে শুভ্র ওরফে আকাশ (২০), মো. আবদুল বাছেদ (২২) ও মো. জুয়েল সরকার ওরফে সোহরাব ওরফে সরকার (৩২)। বনানী ও তেঁজগাওয়ে দুটি ডাকাতির ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ ‘পাওয়া গেছে’ বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সরকার জেএমবি ও জেএমজেবির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ওই বছর ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা ফাটিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সংগঠনটি।

ঝালকাঠি জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও ছিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইসহ ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপর টানা অভিযানে এমবির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কিন্তু। গত তিন বছরে অধিকাংশ জঙ্গি হামলা ও হত্যার জন্য জেএমবিকেই দায়ী করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চলতি বছরের শুরু থেকে জঙ্গি কর্মকাণ্ড নতুন মাত্রা পায়। ১ জুলাই গুলাশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ও ৭ জুলাই ঈদের দিন শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে যাওয়ার পথে নজিরবিহীন দুটি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনাতেই পুলিশ জেএমবির নতুন একটি অংশকে দায়ী করে জানায়, তারা ‘নব‌্য জেএমবি’।

মনিরুল জানান, পুরনো জেএমবির বর্তমান আমির সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন ভারতে পালিয়ে আছেন বলে তাদের ধারণা।

“সংগঠনটির ওই অংশের সঙ্গে আনসার আল ইসলামের একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত