২৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১৭:২১
ছবিঃ সংগৃহীত
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলা, উচ্ছেদ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে মানুষ হত্যার অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও, চিনিকলের এমডি, দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন সাঁওতালরা। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ২টায় থমাস হেমরম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এ সময় আইন ও শালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, নিজেরা পারি এবং এএলআরডি’র ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল থানায় উপস্থিত ছিলেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভ্রাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, "গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান, উপজেলার সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আহমেদ বুলবুল, কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম রফিক, ইক্ষু খামারের ম্যানেজার আব্দুল মজিদ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হোসেন ফুকুসহ ৩২ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।"
এর আগে একই ঘটনায় গত ১৬ নভেম্বর গভীর রাতে উপজেলার মুয়ালীপাড়া গ্রামের স্বপন মরমু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং ২৩, তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৬)।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৬ নভেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায়-দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হন ৯ পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন ৪ সাঁওতাল। এ ঘটনায় ৩ জন সাঁওতাল মারা যান। ওই ঘটনার পর পুলিশ-র্যাব অভিযান চালিয়ে জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এ সময় তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা।
আপনার মন্তব্য