২৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৫
ছবিঃ প্রথম আলো
রামপাল প্রকল্প বাতিল করে সুন্দরবনবিনাশী সকল অপতৎপরতা বন্ধসহ ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে হরতালসহ কর্মসুচি ঘোষণা করেছে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ, ২৬ ডিসেম্বর দাবি দিবস পালন, ৭ জানুয়ারি বিশ্ব প্রতিবাদ দিবস পালন, ১৪ জানুয়ারি বিকল্প প্রস্তাব পেশ এবং ২৬ জানুয়ারি দেশব্যাপী অর্ধদিবস হরতাল।
মহাসমাবেশে কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, "যুক্তি, বৈজ্ঞানিক তথ্য, মানুষের মতামতের প্রতি সরকার যদি গুরুত্ব দিতো, তাহলে সরকার সুন্দরবন বিনাশী পদক্ষেপ গ্রহন করতো না। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ক্ষতি হবে না বলা এমন বিশেষজ্ঞ খুঁজে পাওয়া যাবে না। সরকার জেনেশুনে মানুষের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছে।"
তিনি বলেন, "রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়া, বাঁশখালি প্রকল্পে চীন ও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত সরকার বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশে ওই তিন দেশপন্থী লোক পাওয়া গেলেও সরকারের স্বার্থরক্ষায় কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।"
সুন্দরবনে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের নামে বিলবোর্ড লাগিয়ে জায়গা বেদখল করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "অস্তিত্ব রক্ষার এ লড়াইয়ে আমাদের লড়তেই হবে। দেশের কোন বিবেকবান মানুষ সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে দাঁড়াবে না।"
প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও রুহিন হোসেন প্রিন্সের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, খান মোহাম্মদ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কমরেড খালেকুজ্জামান, সুধাংশু চক্রবর্তী, আবুল মকসুদ, এম এম আকাশ, কফিল আহমেদ, প্রকৌশলী রহমত উল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মোশাররফ হোসেন নান্নু, মুশরেকা মিশু, মাছুম খান, নাসির উদ্দিন নসু, শামসুজ্জোহা প্রমুখ।
মহাসমাবেশ শেষে একটি মিছিল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু হয়ে টিএসসি, শাহবাগসহ আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিন করে।
আপনার মন্তব্য