০৮ জানুয়ারি, ২০১৫ ১০:২১
বিএনপির লাগাতার অবরোধের মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৩০ ফুটের বেশি রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে।
রেলকর্মীরা বিষয়টি টের পাওয়ায় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবর্তীপুর, সৈয়দপুর ও নীলফামারীর রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ভোররাতের কোনো এক সময় সদর উপজেলার উরি সেতু এলাকায় প্রায় ৩৬ ফুট রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয় বলে জয়পুরহাট রেল স্টেশনের মাস্টার নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রেললাইনের প্যান্ডেল ক্লিপ ও ফিসপ্লেট খুলে প্রায় ৩৬ ফুট লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে। লাইন মেরামতের জন্য সকালে পার্বতীপুর থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আনা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির ডাকা অবরোধের রাতে জয়পুরহাট সদরের পুরানাপৈল এলাকায় রেল লাইনে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে দুই কিশোরকে ধারাল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে গ্রেপ্তার এই দুজন উপজেলার জলাটুল গ্রামের বাসিন্দা। জয়পুরহাট সদর থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, এক দল কিশোর রেল লাইন উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে বলে খবর পেয়ে পুরানাপৈল এলাকায় যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই কিশোরকে ধারালো অস্ত্রসহ (হাসুয়া) গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে লাইন মেরামতের পর ফের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনার আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জয়পুরহাট সদরের পুরানাপৈল এলাকায় রেল লাইনে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে দুই কিশোরকে ধারাল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জয়পুরহাট সদর থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, এক দল কিশোর রেল লাইন উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে খবর পেয়ে পুরানাপৈল এলাকায় যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই কিশোরকে ধারালো অস্ত্রসহ (হাসুয়া) গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে গভীর রাতে সদর উপজেলার হিচমী বাজারে জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কে একটি আলু বোঝাই ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে ততক্ষণে ট্রাকটি পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের দাবিতে ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের’ কর্মসূচিতে বাধা পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারন খালেদা জিয়া দেশজুড়ে টানা অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
অবরোধে দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচল করছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ভেতরেও গাড়ি চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
অবরোধের প্রথম দুই দিনে ঢাকা ও যশোরে কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হলেও রেলে কোনো গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি।
তৃতীয় দিনে জয়পুরহাটে রেললাইন উপড়ে ফেলা হল। একই রাতে মৌলভীবাজারেও একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। রেললাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।
এর আগে ২০১৩ সালের প্রথমার্ধে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল-অবরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ধরে নাশকতার চেষ্টা হয়।
ভিডিও : জয়পুরহাটে ট্রেন লাইনে নাশকতা । ভিডিও কার্টেসিঃ বিডিনিউজ
আপনার মন্তব্য