০৯ জানুয়ারি, ২০১৫ ২৩:৫৩
সোশ্যাল সাইট ফেসবুকে ভেসে ওঠে সমাজ আর রাজনীতি বিষয়ক ব্যক্তিক মতামত আর সেখান থেকে সঞ্চারিত হয় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হয়ে সমাজের সবখানে। বিভিন্ন ইস্যুতে সব সময়ই সরগরম থাকে অনলাইন। আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত থাকে, থাকে দলীয় চিন্তার প্রতিফলন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলীয় বৃত্ত থেকে বের হয়ে এসে চিন্তার সম্মিলন। ফলে এই সময়ে ফেসবুককে সামাজিক অন্য দর্পণ বললে খুব বেশি বলা হয়ে যাবে বলে মনে হয় না।
সাম্প্রতিক সময়ের বার্ণিং ইস্যু বেগম খালেদা জিয়াকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ ফোন করেছিলেন কীনা। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়েছিলেন অমিত শাহ বেগম জিয়াকে ফোন দিয়েছিলেন। সরকার নড়েচড়ে বসেছিল, উল্লাস দেখা দিয়েছিল বিএনপি শিবিরে। ঘটনার এক দিন পর জানা গেল বিএনপির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা- অমিত শাহ ফোন দেন নি, ঢাকা থেকে ফোন দেওয়া হয়েছিল কিন্তু অমিত শাহ’র সঙ্গে কথা হয় নি।
সাম্প্রতিক এই ইস্যুতে অনেকেই তাদের মত প্রকাশ করেছেন। বলা প্রয়োজন, এই স্ট্যাটাসগুলোই কেবল পুরো ফেসবুক মতামতের প্রতিফলন নয়; এটা খণ্ডিত এক অংশ যার কিছু অংশ সিলেটটুডে পাঠকদের জন্যে:
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি এম শাহরিয়ার আলম তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেন- আমি নিজে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, বিএনপি নিজেরাই ঢাকা থেকে চেষ্টা করেছিলো জনাব অমিত শাহ্ র সাথে কথা বলার জন্য, কিন্তু কথা হয়নি। কথা না বলেই মিডিয়ায় বানিয়ে একটা বলে দেয়া একজনের দপ্তর থেকে যার দায়িত্বে ছিলো বাংলাদেশ এক সময় !!! দেউলিয়াপনা আর কাকে বলে !!!!!
Even after being in the helm for many years as Prime Minister of this country, BNP has forgotten everything; norms, culture, international relations. They never learned to do politics so question of forgetting that not in question. I have personally checked with Indian authority. BNP tried to reach Mr. Amit Shah several times from Dhaka but could not reach him. BNP must stop spreading false news.
সাংবাদিক ফজলুল বারী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন- "বিষয়টিতে ভারতীয় হাই কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হাই কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সূত্রটি জানায়, খবরটি মিথ্যা। বিজেপি সভাপতি খালেদা জিয়াকে ফোনও করেন নি, কথাও বলেন নি।
হাই কমিশনের বরাতে দায়িত্বশীল সূত্রটি আরও জানায়, হাই কমিশনে তথ্য রয়েছে, গত রাতে খবরটি প্রচারিত হওয়ার পর শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে অমিত শাহকে ফোন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি টেলিফোনের বিষয়টি জানতে চাইলে অমিত শাহ তাকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে দু দফা তার দফতরে ফোন গিয়েছিলো। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনও কথা হয় নি।
হাই কমিশন নিশ্চিত করে, অমিত শাহ কোনও ফোন করেননি, এবং কথাও বলেননি।"
আমিনুল ইসলাম তাঁর টাইমলাইনে লিখেন- "কি অদ্ভুত এই আমরা আর আমাদের মনসিকতা! গতকাল বড় করে একটা খবর ছাপা হলো ভারতের বিজেপির কোন নেতা নাকি বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে উনার শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। এতে বিএনপির লোকজনদের সেকি উল্লাস! আজ আবার দেখছি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে বিজেপির ওই নেতা নাকি খালেদা জিয়াকে ফোনই করেনি; উল্টো খালেদা জিয়া অনেক বার চেষ্টা করে তাকে ফোনে পায়নি! এখন দেখছি আওয়ামীলীগের লোকজনদের উল্লাস! এই আওয়ামীলীগ ও বিএনপির লোকজনদের উল্লাসের মাঝে আমি ভাবছিলাম আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের অবস্থান ঠিক কোথায়!
ভারতের কোথাকার কোন পার্টি নেতা কার শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিলো এই নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সব পত্রিকা গুলো সংবাদ শিরোনাম করে, টেলিভিশন গুলো ব্রেকিং নিউজ করে। দুই দল মিলে কখনো মন খারাপ করে, আবার কখনো উল্লাসও প্রকাশ করে। অথচ আমাদের দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশে গেলে সে সব দেশের মানুষজন জানতেও পারে না উনারা সেখানে গেছেন কিনা। এমনকি অন্য দেশে তাদের বিমান বন্দরে রিসিভ করার জন্যও দেখা যায় সে দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী না গিয়ে কোন মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তা হাজির হয়। আর সংবাদ পত্রের শিরোনাম হওয়া তো অনেক পরের ব্যাপার। আর আমরা কিনা ভারতের কোন নেতা কাকে ফোন করে কার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিচ্ছে সেটা নিয়ে ব্রেকিং নিউজ করি, দল গুলো কেউ উল্লাস করে, কেউ মন খারাপ করে। আসলে আমরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি! নাকি এখনো দাঁড়াতেই পারিনি!"
নাহিদ এনাম ফেসবুকে লিখেন- "গতকাল বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ডেকে বিএনপির অফিসিয়াল সুত্র থেকে দুটি খবর জানানো হয়েছিল।
খবর ১
"খালেদা জিয়ার বন্দীদশা এবং আদালত থেকে তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন কংগ্রেসম্যান উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছেন।"
খবর ২
"বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ফোন করে অসুস্থতার খোঁজ-খবর নিয়েছেন।"
এবার আজকের খবর শুনুন,
গতকালের পর থেকে এদেশের সাংবাদিকরা এবং গোয়ান্দারা তদন্ত করে আসল তথ্য উন্মোচন করেছেন বিএনপির প্রচার করা ওই দুটি খবরই ভুয়া।শুধু তাই নয়,আমেরিকান এ্যাম্বাসি থেকে এবং ভারতীয় হাইকমিশন থেকে সরাসরি বিএনপির এই বানোয়াট খবরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাদেরকে ভুয়া খবর প্রকাশ না করার সতর্ক করে দিয়েছেন।"
সাইফুল আলম লিখেন- "এমন অনেক কিছুই হবে, যা কেউ ভাবেনি আগে!
রাজনীতিতে নাম ভাঙিয়ে খাওয়ার ঘটনা হরহামেশা শোনা যায়; অমুক মন্ত্রীর চৌদ্দ নম্বর স্ত্রী (সরি হাত) আমি, অমুক নেতা খায় বাড়ি কুলি করে আমার উঠানে বা এই জাতীয় কথা বলে বোকা-সোকা লোকের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া উদাহরণ কম নেই। কিন্তু বিজেপি তথা অমিত শাহ ভাঙানোর ঘটনাও যে আমাদের শুনতে হবে, তা অবশ্য ভাবা যায়নি।"
এমদাদুল হক তুহিন তাঁর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এভাবে-"বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ফোন করে অসুস্থতার খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলে যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে অমিত শাহর কার্যালয়ে দুই দফা ফোন করে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে।অমিত শাহর সঙ্গে নয় তার কার্যালয়ের কমকর্তাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কার্যালযের কথা হয়েছে। ফোন নয়াদিল্লি থেকে আসে নি বরং ঢাকা থেকে গেছে।"
মারূফ অমিত স্টিশন ব্যঙ্গ করে লিখেন- "অমিত নাম নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া'র টাল বাহানার তীব্র নিন্দা জানাই। অমিত শাহ, স্টিশন অমিত কেউ'ই খালেদা জিয়াকে ফোন করেন নি মাননীয় স্পিকার।"
আজাদ মাস্টার ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে লিখেন- "একাত্তরে বাংলায় বাঙালি গণহত্যার অন্যতম দোসর জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা বেনজির ভুট্টোর বায়োগ্রাফীতে পড়েছি , ধূর্ত রাজনীতিবিদ ভূট্টোকে যখন ইঊএসের মতো কোন পরাশক্তিধর দেশের সরকার ফোন দিতো তখন ভুট্টো সরাসরি নিজে ফোন রিসিভ না করে কন্যা বেনজিরকে ফোন ধরিয়ে বলাতেন " আব্বা তো এখন সোভিয়েত রাশিয়া কিংবা চীনের প্রিমিয়ারের সাথে আরেকটা ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত আছেন "। জুলফিকার ভুট্টো এই ব্লাফবাজি / স্ট্যাণ্টবাজি করতো বিশ্ব দরবারে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্যে ।
বিএনপি তাদের অফিসে জিয়াঊর রহমানের ছবি ঝুলালেও দেখা যাচ্ছে, রাজনীতিতে তাদের প্রকৃত রোল মডেল পাকিস্তানি জুলফিকার আলি ভুট্টো । "
আপনার মন্তব্য