২৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:১৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দার জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাবেক ৪৬ জন নেতা। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণকে ‘দায়িত্বহীন’ আখ্যায়িত করে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
শুক্রবার তারা এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, মাননীয় উপাচার্যের কক্ষে, আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে গেটে তালা দিয়ে রাখতে হয়। আর ‘নিজেকে রক্ষার’ অজুহাতে সরকারি ছাত্র সংগঠনের আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয় প্রশাসনকে।”
রাজধানীর সাত কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতদের উপর ছাত্রলীগের হামলার সময় ছাত্রীদের নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ছাত্রী নিপীড়নে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের দাবিতে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে একদল শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা।
অন্তত তিনটি ফটক ভেঙে তারা অবস্থান নেন উপাচার্যের দরজার সামনের করিডোরে। উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান তিন ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী এসে আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সরকার সমর্থক সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সে সময় রড-লাঠি নিয়ে চড়াও হন বিক্ষোভকারীদের ওপর; উপাচার্য ভবন থেকে থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় হামলা হয় বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।
বিবৃতিতে সাবেক নেতারা বলেন, “অতীতেও সরকার সমর্থকদের ছাত্র সংগঠন এ ধরনের নির্লজ্জ সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করেছে। এর পরিণতি মোটেও সুখকর হয়নি। এমনকি ঘটনার পরপর অপরাধ ও অপরাধীদের আড়াল করতে নানা ধরনের বয়ান তৈরি করা, প্রগতিশীল বাম ছাত্র সংগঠন ও তাদের নেতৃবৃন্দকে অভিযুক্ত করা এবং ছাত্র সমাজের গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।”
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুশতাক হোসেন, সাবেক ছাত্র নেতা আনোয়ারুল হক, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, মোশরেফা মিশু, বেলাল চৌধুরী, রাগিব আহসান মুন্না, রাজেকুজ্জামান রতন, আসলাম খান, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, শরীফুজ্জামান শরীফ, লুনা নূর, বাকি বিল্লাহ, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মানবেন্দ্র দেব, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, রফিকুল ইসলাম সুজন।
আপনার মন্তব্য