ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ার খবর জানা থাকায় বুঝেশুনে বৃহস্পতিবারের টিকিট কেটে পরদিন স্টেশনে আসেন তিনি।
কিন্তু শুক্রবার দুপুরের পর থেকে স্টেশনের দেওয়ালে ঝোলানো মনিটরে কয়েকবার রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ছাড়ার পরিবর্তিত সময়সূচি জানানো হলেও রাত ৮টায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবারের ট্রেনটি মধ্যরাতের আগে ঢাকা ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ রাজশাহী থেকে ছাড়া ওই ট্রেন পথে বিলম্বের কারণে পৌঁছাতে পারেনি।
সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জরুরি পারিবারিক কাজে গ্রামের বাড়ি যেতে হচ্ছে। সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় যত বিলম্বই হোক ট্রেনকেই বেছে নিয়েছিলাম। এখন শুক্রবার রাত দেড়টায় সিল্কসিটি ছাড়তে পারে বলে আভাস দিচ্ছেন স্টেশনের লোকজন।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধে বিভিন্ন স্থানে রেলপথ উপড়ে ফেলাসহ নাশকতা হওয়ায় সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থায় এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এখন প্রতিদিনকার চিত্র।
যাত্রাবাহী বাসে পেট্রোল বোমায় প্রাণহানির কয়েকটি ঘটনা ঘটায় যারা গন্তব্যে যেতে রেলপথকেই ভরসা হিসাবে নিয়েছিলেন তাদের অনেককেই এখন রাত কাটাতে হচ্ছে স্টেশনে স্টেশনে। কোথাও আবার টিকিটও মিলছে না। ট্রেন ছাড়ার ভরসা দিতে না পারায় অনেক স্টেশনে বিক্রি হওয়া টিকিট ফেরতও নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার কমলাপুর স্টেশনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছেন খুলনা, কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন গন্তব্যের কয়েক হাজার যাত্রী।
রাজশাহীগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের যাত্রী বিক্রম রায় বলেন, দুপুর থেকে অপেক্ষার পর রাত ৮টায় তাদের ট্রেনটি কমলাপুর ছেড়েছে, যা বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
“শুক্রবার রাতে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটিতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিনের টিকিট করা যাত্রীরা উঠেছেন। যারা আগে টিকিট কেটেছেন তারা যাচ্ছেন চেয়ারে বসে, আর যারা পরের দিনের টিকিট কেটেছেন তারা যাচ্ছেন দাঁড়িয়ে।”
ভাই অক্ষয় কুমারকে নিয়ে বিক্রমও দাঁড়িয়েই রওনা হয়েছেন।
স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, চিত্রা এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসার কথা থাকলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি ছাড়েনি।
ঢাকা-দিনাজপুর রুটে চলাচলকারী একতা এক্সপ্রেসও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে।
মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক যাত্রীর টিকিটের সূচি অনুযায়ী, লালমনি এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে লালমনিরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যার পরও ওই ট্রেনের দেখা মেলেনি।
রেলপথে নাশকতার বিষয়টি মাথায় রেখেই ট্রেনের গতি কমানো ছাড়াও বুঝেশুনে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। আর এ কারণেই সময়সূচির এমন এলোমেলো অবস্থা বলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার নিপেন্দ্র সাহা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “অবরোধে নাশকতার আশঙ্কায় রাতের বেলা ট্রেনের গতি ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখা হচ্ছে। এছাড়া এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনের মর্ধবর্তী লাইন শাটল ট্রেন পাঠিয়ে চেক করা হচ্ছে। ফলে সারা দেশে ট্রেনের নির্ধারিত সময়সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিলম্ব করে হলেও রেল যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূচি বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে নিপেন্দ্র সাহা জানান, কেউ চাইলে টিকিট ফেরত নেওয়া হচ্ছে, পরিবর্তনও করে দেওয়া হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য