১৮ জানুয়ারি, ২০১৫ ২০:১৫
সিলেটটুডে প্রতিবেদন
দেশে বাজারে প্রচলিত এক টাকা এবং দুই টাকার নোট ও কয়েন (ধাতব মুদ্রা) বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে। সর্বনিম্ন মুদ্রা হিসেবে পাঁচ টাকার কয়েন বা নোট চালু করা হবে। আর এটি হবে খুব শীঘ্রই।
রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য দেন। এই খবর প্রচারের পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা দেখা যায় ।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন ১ ও ২ টাকা ইউসলেস ( অপ্রয়োজনীয়) । সাংবাদিকরা ১ টাকার চকলেটের প্রসঙ্গ তোললে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, 'এক টাকা-দুই টাকায় চকলেট পাওয়া যায় নাকি? কিন্তু বাস্তবে বাজারে এখনও ১ ও ২ টাকা দিয়ে অনেক রকমের চকলেট পাওয়া যায় ।
১/২ টাকায় কিছুই পাওয়া যায় না অর্থমন্ত্রীর এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে । কেউ কেউ বলেছেন - গ্রাম বাংলায় এখনও ১ থেকে ৪ টাকার হিসাবে অনেক লেনদেনই হয়ে থাকে কাজেই এমন সিদ্ধান্তের কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারেনা ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে করা পোষ্ট এ সম্পর্কিত কয়েকটি মতামত পাঠকদের উদ্দেশ্যে তোলে ধরা হলঃ
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার লিখেছেন, -
"খবরঃ দেশে ১ ও ২ টাকার মুদ্রা থাকছে না। এগুলোকে ইউজলেস বলেছেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী।
মতামতঃ আমার মনে হয় তার আগে দেশে যতো বিদেশী পাসপোর্টধারী ইউজলেস মন্ত্রী, এমপি, নেতা-নেত্রী আছেন, তাদের এমিরেটস এর ফার্স্ট ক্লাসে বসিয়ে দেশ রাবিশমুক্ত করা উচিত।"
সিলেট গণজগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু লিখেছেন, -
"১. টাউনবাসে করে বাড়ি থেকে প্রতিদিন অফিসে আসতে ভাড়া লাগে ৭ টাকা। ভাংক্তি না নিয়ে উঠলে হেলপার পুরো ১০ টাকাই রেখে দেয়। তাই সবসময় গাড়িতে উঠার আগে পকেটে হাত দিয়ে ১ ও ২ টাকার নোট আছে কী না দেখে নেই।
২. দুপুরে ডিম ভাজি করার জন্য ঘরে পেঁয়াজ ছিলো না। ছোটভাইয়ের হাতে দুই টাকা ধরিয়ে দিয়ে দোকান থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসতে বলেন মা। টাকার পরিমান দেখেই 'দুই টাকায় কিছু পাওয়া যায় না' বলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয় ছোটভাই। কিন্তু মায়ের নাছোরবান্দা আবদারে পরাস্ত হয়ে একটু পর ঠিকই হাতে দুইটা পেঁয়াজ নিয়ে ঘরে ঢুকে সে।
প্রতিদিনই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।। প্রায় প্রতিদিনই মায়ের রান্নার সময় কিছু কিছু শর্ট পরবেই। এবং যথারীতি ২ বা ৩ টাকা দিয়ে সেটা নিয়ে আসতে ছোটভাইকে দোকানে যাওয়ার অনুনয় করবেন। দুই টাকা নিয়ে দোকানে গেলে ইজ্জ্বত চলে যাওয়ার শঙ্কায় কিছুক্ষণ রাগারাগি করে ঠিকই দোকান থেকে জিনিসটা নিয়ে আসে সে।
আজ শুনলাম সরকার ১ ও ২ টাকার নোট তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি ১ ও ২ টাকায় যে এখনো কিছু পাওয়া যায় সেটাই নাকি জানেন না আমাদের সর্বজ্ঞানী অর্থমন্ত্রী।
জনগনের অবস্থা যা-ই হোক, মন্ত্রী আর তাদের সহচরদের আয় রোজগার যে বেশ ভালোই হচ্ছে বুঝা যাচ্ছে! "
নাজমুল আলবাব অপু লিখেছেন
"১ বা ২ টাকা দিয়ে এই দেশে এখনও কিছুমিছু পাওয়া যায়। আমাদের মন্ত্রীমহোদয় সেটা জানেন না। এই লোকটা নিরাময় অযোগ্য..."
বন্দনা কবির লিখেছেন
"১ ২ আর ৫ টাকার কয়েন ভর্তি আমার চারটা চকলেটের ডিব্বা আছে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী ৫ টাকার নীচেরগুলাকে রাবিশ বলেছেন।
এখন আমি এত্তোগুলা ১ আর ২ টাকা দিয়া কি করিবো?
বুন্ডুগন বুদ্ধি দিয়া হেল্প করেন প্লিজ ।
বিঃদ্রঃ -
ইহা একটি সিরিয়াসলি সিরিয়াস পোস্ট কিন্তু হুম... "
ফাহমিদ আল জিয়াদ শাওন লিখেছেন, - " ধরুন, একটি পণ্যের দাম ৫৭ টাকা। যদি ১ ও ২ টাকার নোট 'উঠিয়ে' নেয়া হয়, তাহলে আমি কি বিক্রেতাকে ৬০ টাকা দিয়ে পণ্য নিয়ে চলে আসবো নাকি বিক্রেতা আমাকে ৫৫ টাকায় পণ্যটি দিয়ে দেবে? বিষয়টি কেউ কি আমাকে বুঝিয়ে বলবেন ??? আমি 'টাকা-পয়সা'র ব্যাপার একটু কম বুঝি।"
হয্রত বিনয় ভদ্র ব্যঙ্গ করে লিখেন - "অর্থমন্ত্রী আবুল মালের কাছে হলমার্কের ৪হাজার কোটি টাকা কিছুইনা, ভাংতি ১/২টাকাও কিছুই না ! কত টাকা হলে অনেক হবে যে?"
শোভন শুভ আফসোস করে লিখেছেন- "পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর নোটের অধিকারী বাংলাদেশের " ২টাকার নোট " বাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে!"
এছাড়াও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করে আরও অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন । হঠাৎ করে এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন সাধারণ মানুষ ।
আপনার মন্তব্য