এই অরাজক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পেতে উদ্বিগ্ন মানুষের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক দেখা গেছে অনেকগুলো ইভেন্ট। #হোকপ্রতিবাদ, নাশকতার বিরুদ্ধে হোক প্রতিবাদ,থামাও সহিংসতা,সহিংস রাজনীতি বন্ধের দাবিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও-দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান, সন্ত্রাসবিরোধী আলোর মিছিল প্রভৃতি ইভেন্টের মাধ্যমে ঢাকা, সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-জনতা অবস্থান নিচ্ছে। আলোর মিছিল, মানব বন্ধন, অবস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে তারা অবরোধের নামে নাশকতার বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিচ্ছে।
নাশকতা বিরোধী বিভিন্ন ইভেন্ট গুলোর মধ্যে "প্রাণের ৭১-বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বন্ধুরা" তাদের নিজস্ব উদ্যোগে "#হোক প্রতিবাদ" নামক ইভেন্টে আগামীকাল ২৪ জানুয়ারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করবে। ইভেন্টে বলা হয়েছে; "#সংহতি-আমাদের সম্মিলিত শক্তি বোমাবাজদের চেয়ে অনেক বেশি। আসুন সবাই মিলে রুখে দাড়াই এবং তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলি এইসব বোমাবাজ বিরুদ্ধে। ২৪ জানুয়ারী শনিবার শহীদ মিনারের সামনে দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ করছি সাদা পতাকা নিয়ে। আপনিও চলে আসুন। সন্ত্রাস সহিংসতার আগুনে যেন কোন মানুষকে আর পুড়তে না হয়। #হোকপ্রতিবাদ পৃথিবীজুড়ে।"

একই দিন সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখেও "থামাও সহিংসতা" নামক অবস্থান কর্মসুচির আহ্বান করা হয়েছে। সামাজিক গণমাধ্যমে সাড়া জাগানো এই ইভেন্টে বলা হয়েছে; "আমরা মানুষ। বাংলাদেশের নাগরিক। শ্রদ্ধা করি মানবতাকে। ভালবাসি স্বদেশ ও স্বদেশের মানুষকে। তাই হরতাল ও অবরোধের নামে অগ্নিদগ্ধ, সহিংসতার শিকার নারী-পুরুষ ও শিশুর অশ্রু, পুড়ে অঙ্গার হওয়া মানুষ দেখে আমাদের বিবেক বিক্ষুদ্ধ হয়। হৃদয়ে অনবরত হয় রক্তক্ষরণ। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ কন্ঠস্বরে উচ্চারণ করতে চাই, "সহিংসতা বন্ধ কর, বিবেক জাগ্রত কর" আর ঘরে বসে থাকা নয়। সকলে মানবতার পক্ষে ও সহিংসতার বিপক্ষে চলুন একটি মৌন পদযাত্রা করি। আসুন, স্বজনদের এই বেদনায় তাদের পাশে দাঁড়াবার নৈতিক দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আগামী ২৪ জানুয়ারী, শনিবার সকাল ১০.০০টায় মানবতার পক্ষে সকল বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, পেশাজীবী, মেহনতি মানুষ, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী ক্রীড়াবিদ তথা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে সমবেত হই। এই অহিংস মৌন পদযাত্রায় সামিল হয়ে সহিংসতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। এখনই সময়।
STOP ATROCITI
We, the people, citizens of Bangladesh- we respect humanity, we have love and compassion towards our country and country-men when innocent citizens are maimed, burnt or killed- then the level of sadness knows no bounds. So, let us unite
“Stop Violence Raise your consciences”
Please do not remain passive anymore. Let us all join in a peaceful silent march against violence."

অবরোধের নামে সন্ত্রাস,মানুষ হত্যার প্রতিবাদে ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে "দেশব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী গণঅবস্থান ও সমাবেশ" ইভেন্ট শুক্রবার বিকাল ৫টায় শাহবাগে আলোর মিছিল করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
রাজধানী ঢাকার বাহিরে সিলেটেও সাধারণ ছাত্র জনতা সম্মেলিত ভাবে অবস্থান কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে। "নাশকতার বিরুদ্ধে হোক প্রতিবাদ" নামক ইভেন্টে সিলেটের সর্বস্তরের ছাত্র জনতা বিকেল ৪ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবরোধের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচী পালন করবে। ইভেন্টের উদ্যোক্তা রাজীব রাসেল ও অরূপ বাউল সিলেট টুডে ২৪ কে জানান; "রাজনীতির নামে পুড়ছে মানুষ। গণতন্ত্রের নামে মরছে মানুষ। বাতাসে পোড়া মাংসের গন্ধ। পুড়ে মরছে আমার-আপনার ভাই-বোন-বন্ধু-স্বজন। রাজনীতির নামে এই নাশকতা দিনদিন বেড়েই চলছে। গণতন্ত্রের নামে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছেই। আর কতদিন নিরব হয়ে থাকবো আমরা? আর কতকাল বসে থাকবো হাত পা গুটিয়ে? কাজেই আমরা মনে করছি গণমানুষের তীব্র প্রতিবাদই পারে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে। " তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সিলেটে বসবাসরত সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

তাছাড়া "সহিংস রাজনীতি বন্ধের দাবিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও, দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান" নামক ইভেন্ট তরুণ ছাত্র জনতা খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। ইভেন্টে বলা হয়েছে; ২০১৪সালের ৫ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা দেখেছি বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মধ্যবর্তী সরকারের দাবীতে আন্দোলন করে চলেছেন। কিন্তু আন্দোলনে সফল হতে না পেরে ছিটকে পড়েন নির্বাচন থেকে। তখন থেকেই তিনি গুলশানে বসে বসে অরাজকতা সৃষ্টি করেন দেশে। টানা অবরোধ হরতাল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা সংখ্যালগুদের ওপর আক্রমন করা গাড়ী পোড়ানো সহ অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটির সামনে দিয়ে হেটে গেলে পোড়া মানুষের গন্ধে স্বাভাবিকরা টিকতে পারতো না। শিশু মনিরের হাহাকার কিংবা শাহবাগের বিহঙ্গের আগুনে পোড়া মানুষের আহাজারী তাকে একটু নাড়া দেয়নি। গত ৫ জানুয়ারী সরকার গঠনের পরে দেশে আবারো যখন জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে তিনি এবার নেমেছেন গনতন্ত্র রক্ষার মিশনে। গুলশানে বসে বসে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আবারো অনির্দিষ্ট কালের অবরোধ সেই সাথে হরতাল ডেকে জনজীবন বিপর্যস্ত করা শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে দেশে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে দেশের প্রতিটা জায়গায় গাড়ীতে আগুন দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পুড়িয়ে কাবাব বানাচ্ছে তার সন্ত্রাসী বাহিনী। আমরা চাই রাজনীতিক সমস্যা আলোচনায় সমাধান করা হোক। রাজনীতির বলি আমরা সাধারণরা কেন হব?। সাধারণ রিয়াজ রহমানের ঘটনার দিকে তাকান আপনারা, রিয়াজ রহমান আহত তাতেই তিনি হরতাল ডেকে বসেছেন আর এত গুলো মানুষ পুড়িয়ে যে তিনি কাবাব বানাচ্ছেন তার জন্য তিনি একটুও অনুতপ্ত নয়। খালেদা জিয়ার অপরাজনীতির বিরুদ্ধে দাড়াতে আমরা তাকে ঘেরাও করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আশাকরি প্রত্যেক দেশ প্রেমি আমাদের আন্দোলনে অংশগ্রন করবেন।

২১ জানুয়ারীর মধ্যে খালেদা জিয়া হরতাল অবরোধ তুলে না নিলে ২২ তারিখে সকাল ১০টা থেকে তার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।"
উল্লেখ্য,টানা ১৮ দিনের অবরোধে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৮ জন। যার মধ্যে পেট্রোল বোমা ও আগুনে নিহত হয়েছেন ১৩ জন, সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১০ জন। এছাড়া আরও আছেন ৫ জন। ৬১৮ টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। ৪ দফায় নাশকতা করা হয়েছে রেলে এবং বরিশাল-ঢাকা রুটের ১ টি লঞ্চেও আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা।
আপনার মন্তব্য