COVID-19
CORONAVIRUS
OUTBREAK

Bangladesh

Worldwide

164

Confirmed Cases

17

Deaths

33

Recovered

1,431,973

Cases

82,096

Deaths

302,209

Recovered

Source : IEDCR

Source : worldometers.info

সিলেটটুডে ডেস্ক

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৩৪

খুনের আগেই ছাত্রলীগের সিক্রেট গ্রুপে আবরারকে পেটানোর নির্দেশ

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমে পেটানোর পরিকল্পনা হয় আগেই। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেল বুয়েট ছাত্রলীগের সিক্রেট মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে।

ঘটনার একদিন আগেই বুয়েট ছাত্রলীগের সিক্রেট মেসেঞ্জার গ্রুপে খুনিদের যে কথোপকথন হয় সেখানে আবরারকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

সেইসঙ্গে ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়ও উঠে এসেছে লোমহর্ষক সেই ঘটনা।

আবরার হত্যার আগের দিন (৫ অক্টোবর) শনিবার দুপুর পৌনে একটায় সিক্সটিন ব্যাচকে মেনশন করে সেই সিক্রেট গ্রুপে রবিন লেখেন, সেভেন্টিনের আবরার ফাহাদকে মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত। ২ দিন টাইম দিলাম।

পরদিন রোববার রাত ৭টা ৫২ মিনিটে সবাইকে হলের নিচে নামার নির্দেশ দেন মনিরুজ্জামান মনির। রাত ৮টা ১৩ মিনিটে আবরারকে নিজ কক্ষ থেকে ডেকে করিডোর দিয়ে দোতলার সিঁড়ির দিকে নিয়ে যান সাদাত, তানিম, বিল্লাহসহ কয়েকজন।

এরপর রাত ১টা ২৬ মিনিটে ইফতি মোশাররফ সকাল ম্যাসেঞ্জারে লেখেন, মরে যাচ্ছে, মাইর বেশি হয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে এসব চ্যাটিংয়ের এসব ম্যাসেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে, আবরার হত্যাকাণ্ডের সময়কার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সেদিন রাত ১২টা ২৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে আশিকুল ইসলাম বিটু ২০১১ নম্বর রুমের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। এর প্রায় ৭ মিনিট পর তিনি বেড়িয়ে যান।

কী ঘটেছিল শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের ভেতরে ঐ রাতে, এমন প্রশ্নের জবাবে আশিকুল ইসলাম বিটু গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জেমি আর তানিমকে ফোন দিয়ে মনির বলে আবরারকে ডেকে আনো ২০১১ নম্বর রুমে। পরে দেখলাম ২ জন ওর দুটো ফোন ও ল্যাপটপ চেক করছে। কোথায় আবরার লাইক দেয় বা কমেন্ট করে অথবা কাদের সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে এগুলো নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা। এরপর আমি রুম থেকে বের হয়ে যাই।

পরে ১২.৩০ এর দিকে আমি আবার আমার ল্যাপটপ ও বই নিতে রুমে আসি। আমি রুমের ভেতরে ঢুকে দেখি, আবরার একদম মাটিতে লুটিয়ে পরে আছে। সেখানে আবরারের ব্যাচেরও ৭-৮ জন ছিল।

তিনি বলেন, এ ঘটনা দেখে আমি নির্বাক হয়ে যাই। পরে রুম থেকে বের হয়ে সকালকে প্রশ্ন করি, এমন হলো কীভাবে?

তখন মুনির উত্তর দেয়, অনিক ভাই মাতাল অবস্থায় একটু বেশি মারছে। এ কথা শোনার পর আমি তখনই ব্যাগ নিয়ে শেরেবাংলা হল থেকে বের হয়ে আসি।

তাহলে আবরারকে নির্যাতনের খবর বা তার মৃত্যুর খবর কেনো কাউকে জানাননি তখন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিটু। তিনি বলেন, আসলে আমি নিজের সুরক্ষার কথাই ভাবছিলাম। তাছাড়া, অনেক সময়ই হলে এমন হয়। তবে আমি যখন বের হয়ে চলে আসি আবরারের দেহে তখনও প্রাণ ছিল। তখনও তাকে মেডিকেলে নিয়ে গেলে হয়তো বাঁচানো যেত।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন অমিত সাহা। ঘটনার রাতে ২০১১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে প্রমাণও মিলেছে। ফেসবুকে ফাঁস হওয়া একটি স্ত্রিনশটে দেখা গেছে অমিত লিখেছেন, আবরার ফাহাদ কি হলে আছে?

তবে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন অমিত সাহা। তিনি বলেন, আমি ২০১১ রুমে থাকি বলেই আমার নাম সবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত