মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৫৩

‘হুমকির মুখে’ স্কুলে যেতে পারছে না শরিয়ত বয়াতির সন্তানরা

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রেপ্তার বাউল শরিয়ত বয়াতিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দুপুরে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

তবে শরিয়ত বয়াতি কারাগারে থাকলেও গ্রামে তার পরিবার রয়েছে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’। শরিয়তের স্ত্রী শিরিন বেগম জানান, ‘নিরাপত্তার শঙ্কায়’ স্কুলে যেতে পারছেন না তার সন্তানেরা।

তিনি বলেন, “যে চক্রটি শরিয়তের বিরুদ্ধে নানা অপ্রচার ও মামলা করেছে তারাই আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের ছেলে সাদিকুল ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট দু মেয়ে পড়ে প্রথম শ্রেণীতে। হুমকির মুখে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতেও পারছে না।”

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্লা গ্রামের বাউল শরিয়ত বয়াতি (৩৫) গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার একটি বাউলে গানের আসরে যান। সেখানে পালা গানে তিনি বলেন, ‘গান বাজনা হারাম কোরআনে কোথাও এ কথা বলা নাই। কেউ যদি হারাম প্রমাণ দিতে পারেন তবে তাকে ৫০ লাখ টাকার চ্যালেঞ্জ দিলাম।’

ইউটিউবে শরিয়তের এই বক্তব্য তার নিজ গ্রামের কিছু মানুষ দেখে। এরপর তারা অভিযোগ আনেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন শরিয়ত। তার বিচারের দাবিতে এলাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেন তারা।

গত ৯ জানুয়ারি আগধল্লা গ্রামের মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরিয়তের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা ওই মামলায় শরিয়তে বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাতের অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়।

গত শনিবার শরিয়তকে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই তাকে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই মুহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মামলার বাদী শরিয়তের বিরুদ্ধে যে কথা গুলো বলার অভিযোগ এনেছেন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে শরিয়ত তা বলেছেন বলে স্বীকার করেছেন।

তবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোসহ সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর উদ্দেশ্যে এসব বক্তব্য দিয়েছেন কিনা সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে শরিয়তকে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানো আদেশ দেন। শরিয়তের আইনজীবী জানান, তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শরিয়তের জামিনের আবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার শরিয়তকে আদালতে হাজির করা হবে এমন খবর পেয়ে প্রায় শতাধিক বাউল এবং শরিয়তের আত্মীয় স্বজন আদালত এলাকায় ভীড় করেন।

সেখানে শরিয়তের ভাই মারফত আলী জানান, প্রতিবছর তাদের বাড়িতে বাউল গানের আসর হয়। এ গান বন্ধ করার জন্য এ মামলার বাদী মাওলানা ফরিদুল ইসলাম এলাকার কিছু মানুষ সঙ্গে নিয়ে কয়েক বছর যাবত হুমকি দিচ্ছে। তারা চাঁদাও চেয়েছিলো। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত