০২ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ০১:০৫
নারায়ণগঞ্জে ইসলামী মহাসম্মেলনের মঞ্চ ভেঙে পড়েছে। মঞ্চে হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী ও মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন। তখন মঞ্চে থাকা এলইডি স্ক্রিনটি ভেঙে মঞ্চে থাকা কয়েকজনের গায়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন জানান, কেউ গুরুতর আহত হননি।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে এ ঘটনা ঘটে। ভাঙা মঞ্চেই আবার আলোচনা শুরু হয়। কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার অনুষ্ঠিত ইসলামী মহাসম্মেলনে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী ও মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অন্য নেতারা।
বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী কাদিয়ানীদের অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের হিসেবে ঘোষণা করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম আর থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি জানান, বিকাল চারটার কিছুক্ষণ আগে মঞ্চে ওঠেন আহমদ শফী। আসরের নামাজের বিরতির সময় ঈদগাহের ময়দানে নামাজের জায়গার সংকুলান না হওয়ায় মঞ্চে থাকা নেতাদের পাশের খালি জায়গায় উঠে পড়েন অনেকে। নামাজ শেষে তারা আর মঞ্চ থেকে নামেননি। নামাজের কিছুক্ষণ পরই মঞ্চটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এ সময় মঞ্চেই ছিলেন আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতারা। সন্ধ্যার দিকে আহমদ শফীর বক্তব্যের পর দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি আব্দুল বারী, মাইনুদ্দিন আহমেদ, আল্লামা জুনাইদ আল হাবীব, ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জীসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতারা।
আহমদ শফী বলেন, ‘কাদিয়ানীরা আমাদের নবী মুহাম্মদ (স:) কে শেষ নবী হিসেবে মানে না। তাই তারা কাফের। তাদের মুসলমান বলা যাবে না। মুসলমানদের কবরস্থানেও কাদিয়ানীদের কবর দেওয়া যাবে না। তাদের সঙ্গে কোনও ধরনের আত্মীয়তাও করা যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আল্লামা শফী বলেন, ‘আপনি দেশের ষোল কোটি মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখেন এ ব্যাপারে সবাই একমত। যদি কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা না করা হয় তাহলে তোমাদের (সরকারের) পাশে আমরা থাকবো। আর যদি কাফের ঘোষণা না করা হয় তবে তোমাদের পাশে থাকব না। কাদিয়ানীরা এদেশে থাকতে পারবে হিন্দু অথবা অমুসলিম হয়ে। মুসলমান হিসেবে কাদিয়ানীরা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না।’ আল্লামা শফী দেশবাসী ও মুসলিম জাতির শান্তি কামনায় দোয়া করে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আপনার মন্তব্য