সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১০:০৫

ওয়াজের নামে রাজনৈতিক মোল্লারা সাঈদীর মুক্তি চাইছেন: ইনু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সারাদেশে ওয়াজের নামে রাজনৈতিক মোল্লারা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি দাবি করছেন। এ বিষয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণও করেন।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন হাসানুল হক ইনু। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

হাসানুল হক ইনু বলেন, সারাদেশে ওয়াজের নামে রাজনৈতিক মোল্লারা ধর্মের নামে মনগড়া ব্যাখ্যা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত সাঈদীর তুলনা করে সাঈদীকে আল্লাহর প্রিয় মানুষ উল্লেখ করে তার মুক্তি দাবি করা হচ্ছে। ওয়াজে তেঁতুল তত্ত্ব প্রচার করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের জেনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ভাষণ দেওয়া হচ্ছে।

ইনু বলেন, মোল্লারা সরকারের নারী নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নারীর ঘর থেকে বের হওয়া, চাকরি, কাজ, স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার বিরুদ্ধে কথা বলাই এসব রাজনৈতিক মোল্লাদের কাজ। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো, এ নারী বিদ্বেষী ওয়াজ বন্ধ করুন। প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসা বোর্ড তৈরি করে দিয়েছেন। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন তৈরি করে দিয়েছেন। ইসলামের ইতিহাস সব জায়গায় পড়ানো হচ্ছে।

বাউল নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাংলা নববর্ষ ১ বৈশাখ উদযাপনের জন্য উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি প্রায়শই বাউল শিল্পীদের ওপরে নির্যাতন হচ্ছে। কয়েকদিন আগে শরিয়ত নামে এক বাউল শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাঙালিয়ানা ওপর আঘাত হানা হচ্ছে। আমি বাউল শিল্পীদের ওপর নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ধর্ষণ রোধে ১৫৫/৪ ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে জাসদ সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিককালে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সংসদে কয়েকজন সদস্য আবেগপ্রবণ কথা বলেছেন। আমরা ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি চাই। আমি মনে করি, ধর্ষকদের ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যার কথা বলতে পারি না। আমি ধর্ষকদের বিচার চাই। কঠোর বিচার চাই। সেই লক্ষ্যে ১৫৫/৪ সাক্ষ্য আইনের ধারা পুনর্বিবেচনা করা এবং টু ফিঙ্গার পরীক্ষা বাতিলের জন্য আইনমন্ত্রী প্রস্তাব আনুক। এখানে (সংসদে) আলোচনা হোক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত