সিলেটটুডে ডেস্ক

২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০০:০৩

আমরা চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি, কিন্তু কেন হয়ে যাবে মবোক্রেসি: প্রশ্ন সালাহউদ্দিনের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি। কিন্তু কেন হয়ে যাবে মবোক্রেসি? তাকে কেন লালন করতে দেওয়া হবে? সরকারের দুর্বলতার কারণেই ‘মবতন্ত্র’ প্রশ্রয় পেয়েছে এবং এটি কঠোর হাতে দমন করা প্রয়োজন। এ দেশে মবোক্রেসি দেখতে চাই না।’

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কিছু কিছু গণমাধ্যমকে আগে থেকেই টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি কেন মোকাবিলা করা গেল না? প্রথম আলো ও দৈনিক ডেইলি স্টারে হামলা জাতির জন্য লজ্জার। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ দৃশ্য সারাবিশ্ব দেখেছে। সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। এটা কোনোভাবে শুধু দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারব না।

এ ঘটনায় সরকারের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এ রকম একটা প্রেডিকশন ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে থাকে, আমরাও জেনেছি সে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বলেন, ‘শুনেছি এক-দুই ঘণ্টা পরে তারা রেসপন্স করেছে। সেটা কেন?’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। বাংলাদেশের মানুষ পূর্ণ গণতন্ত্র চায় এবং তা সর্বক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। গণতন্ত্র বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সেগুলো গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের মধ্যে কারও কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে দেশের পক্ষেই অবস্থান নিতে হবে, নিরপেক্ষ না থাকতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ বিএনপিকে দেয়, তাহলে গণমাধ্যমের সহযোগিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে বলেও তিনি জানান। সালাহউদ্দিন বলেন, অতীতের ভুলগুলো ভুলে যেতে চাই, তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কী করেছে তা স্মরণে রাখা জরুরি।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণ আশা করছে তারেক রহমানের ফিরে আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তিনি বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর কষ্টকর নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে গণতন্ত্র শক্তিশালী করার কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

সভায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর, সদস্যসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সদস্য শাম্মী আক্তার, মোর্শেদ হাসান খান, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ও বক্তব্য দেন যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান (বিলুপ্ত) কামাল আহমেদ, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, নয়াদিগন্তের সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলি, ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, বিবিসি বাংলার সাংবাদিক কাদির কল্লোল, চ্যানেল২৪ এর হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, আজকের পত্রিকা সম্পাদক কামরুল হাসান, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদ, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, কাজী জেসিন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত