নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১০

সিলেটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ঘোষণায় ভোটে নতুন সমীকরণ

জাতীয় পার্টি (জাপা) এবারেরর নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা কিংবা তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে কিনা এনিয়ে কিছুদিন আগেও জোর আলোচনা ছিল। তবে সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলটি। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীও দেওয়া শুরু করেছে জাপা।

ইতোমধ্যে সিলেটের ৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। আরেকটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির আরেক নেতা। এতে করে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর সিলেটে ভোটের মাঠে হঠাৎ করে আলোচনায় ওঠে এসেছে জাপা। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার শাসনামল দীর্ঘায়ত করতে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটের মাঠে তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি থাকবে সবার। বিশেষত আওয়ামী লীগের ভোট জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা টানতে পারলে বদলে যেতে পারে অনেক সমীকরণ।

বিগত কয়েক দিনে সিলেটের চারটি আসনে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি দুটি আসনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মকসুদ ইবনে আজিজ লামাকে মনোনয়ন দিয়েছে জাপা। তিনি ১৯৯১ সালে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে এবার জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। এর আগে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কখনো নির্বাচিত হতে পারেন নি।

সিলেট-৪ ( কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট) আসনে এবার জাতীয় পার্টি মনোনয়ন দিয়েছে ছাত্র সমাজের সাবেক জেলা সভাপতি ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান ডালিমকে।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ। এর আগে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সংসদ নির্বাচনে এই প্রথম তিনি অংশগ্রহণ করছেন।

এদিকে, জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ ও জাতীয় সংসদে সাবেক বিরোধী দলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন এবার সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এরমধ্যে সিলেট-৫ আসনে জাতীয় পার্টি সাইফুদ্দিন খালেদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় সেলিম সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালে সিলেট-৫ আসন থেকে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় হুইপ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তবে সিলেট-২ আসনে এখনো জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এ আসনে জাপার একাংশ ও জেপির সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট থেকে ইয়াহইয়া চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের হিসাব মেলালেও, এখন নির্বাচনে জাপার অংশগ্রহণ সেই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপা প্রার্থীরা এবার তাদের সাবেক জোটসঙ্গী আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সমমনা ভোটারদের লক্ষ্য করে মাঠে নামবেন।

একাধিক জাপা প্রার্থীর দাবি, যেহেতু তারা দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের জোটে ছিলেন, তাই আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাদের ভোট দেবেন। ভোটারদের মতে, জাতীয় পার্টির এই আগমনে নির্বাচনী অঙ্ক বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে যদি জাপা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বা নিরপেক্ষ ভোটগুলো নিজেদের বাক্সে টানতে সক্ষম হয়। শেষ মুহূর্তে এই ভোটের লড়াই সিলেটের সংসদীয় আসনগুলোতে চমকপ্রদ ফলাফল বয়ে আনতে পারে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা জাপার সভাপতি সাব্বির আহমদ জানান, প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে জাপা কিছুটা বিলম্বে কাজ শুরু করলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই সব প্রার্থী একযোগে মাঠে নামবেন। জাতীয় পার্টি তার নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেবেন কিনা, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত