১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০৪
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১৬ জুলাই) দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে এই রোডম্যাপের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কয়েকটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ ছয় ধরনের অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রোডম্যাপে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপ, আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসির রোডম্যাপের সমালোচনা করলেও তোফায়েল আহমেদ একে বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছেন।
ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘যেখানে আগামী নির্বাচনের রোড দেখতে পাচ্ছি না সেখানে ম্যাপ ঘোষণা করে কী হবে? সহায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা না করে রোডম্যাপ ঘোষণা করে সংকট নিরসন হবে না।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ইসি ও সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বিএনপি ইসির সংলাপে যাবে কী না। কারণ বিএনপি বরাবরই বলে আসছে নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। অন্যথায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। কাজেই সমস্যা সমাধান না করে ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ কোনো কাজে আসবে না।’
দলীয় ফোরামে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সচিবালয়ে সাংবাদিকরা ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে ‘রোডম্যাপ’ জাতির সামনে পেশ করেছে তা বাস্তবসম্মত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেদিন শিডিউল ঘোষণা করবে তারপর থেকে এই ক্ষমতাসীন সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে, তাদের কাজ হবে প্রাত্যহিক কাজ-কর্ম সম্পাদন, নির্বাচন কমিশন যা চাইবে সরকার তাই করবে। এখন সব দলেরই আগামী নির্বচানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।’
সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে কোনো উদ্যোগ আছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি সংবিধান পরিপন্থী কোনো প্রস্তাব পেশ করে, কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না, বিএনপি নির্বাচন করবে কি করবে না, এটি তাদের ব্যাপার। ২০১৪ সালে করেনি, আমরা ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছি।’
এরআগে, রোডম্যাপ প্রকাশকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, এটি একটি সূচনা দলিল। নির্বাচনের পথে কাজের জন্য এ কর্মপরিকল্পনাই সব নয়। সংশোজন-পরিমার্জন করে সবার মতামত নিয়ে আমরা কাজ করে যাবো। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যয় নিয়ে কমিশন কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংলাপে রাজনৈতিক দলসহ সব ধরনের অংশীজনের সুপারিশের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা চান সিইসি। কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হলেও তফসিল ঘোষণার পর থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির অধীনে প্রশাসনিকসহ সব ধরনের কাজের তদারকি শুরু হবে বলে জানান কে এম নূরুল হুদা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিন নির্বাচনী আইন-বিধি অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। এ মুহূর্তে সরকার কীভাবে পরিচালনা হবে ও রাজনৈতিক কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো আমাদের এখতিয়ারে নয়। সরকারের কর্মকাণ্ডে এখনই কমিশন হস্তক্ষেপ করবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু সরকার কেন, রাজনৈতিক দল বা যে কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে পারব আমরা।
তিনি জানান, তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত সাত অনুষঙ্গ ধরে কর্মপরিকল্পনা ধরে কাজগুলো এগোনো হবে। তফসিল ঘোষণার পর ইসির কাজে কোনো কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপে আছে সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুননির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ, বিধি অনুসারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা, সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ এবং আইন সংস্কার।
ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য