২৬ জুন, ২০২১ ২১:২১
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) টি-টোয়েন্টির ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকে হারিয়ে টানা তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে আবাহনী লিমিটেড। ডিপিএলে এটি আবাহনীর হ্যাটট্রিক শিরোপা। গত পাঁচ বছরের মধ্যে চতুর্থ। সবমিলিয়ে ঢাকার শীর্ষ ক্লাব ক্রিকেটে দলটির এটি ২১তম শিরোপা।
শনিবার (২৬ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ১৫০ রান করে শেষ ওভারে ৮ রানের জয় নিশ্চিত করে লিগ শিরোপা জয়ের হ্যাটট্রিক করল আবাহনী।
আবাহনীর ১৫০ রান তাড়া করতে প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটসম্যানদের দরকার ছিল ঠাণ্ডা মাথায় হিসেবি ব্যাটিং করা। কিন্তু আটে নামা অলক কাপালি ছাড়া আর কেউই সেটা করতে পারলেন না। ওপেনার রুবেল মিয়ার মন্থর ব্যাটিংয়ের সঙ্গে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আসা–যাওয়ার মিছিলের পরও অলক-জাদুতে ম্যাচটি শেষ ওভারে নিয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক।
শেষ ওভারে জিততে প্রাইম ব্যাংকের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বল তুলে দেন শহিদুল ইসলামের হাতে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ ওভার বল করে সফল হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে শহিদুলের। গত বছর বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টির ফাইনালেও শেষ ওভারে ১৬ রান দরকার ছিল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের। কিন্তু জেমকন খুলনার বোলার শহিদুল সে রান করতে দেননি গাজী গ্রুপকে।
আজও শহিদুলের শেষ ওভার থেকে অলক মাত্র ৭ রানই নিতে পারলেন। ২০ ওভারে প্রাইম ব্যাংক করেছে ৯ উইকেটে ১৪২ রান। মাঠে তখন উৎসবে ভাসছেন আবাহনীর ক্রিকেটারেরা।
তারুণ্যে ঠাসা আবাহনীর ক্রিকেটারদের মধ্যে শিরোপা জয়ের উন্মাদনাটা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনেরই বেশি ছিল। ব্যাট–বল হাতে ম্যাচটা যে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তিনিই! ম্যান অব দ্য ম্যাচও সাইফউদ্দিনই।
নাজমুল হোসেন ৪৫ রান করেছেন ৪০ বল খেলে, মুশফিকুর রহিমের জায়গায় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মোসাদ্দেক ৪০ রান করেছেন ৩৯ বল। এরপর সাইফউদ্দিন লোয়ার অর্ডারে নেমে ১৩ বলে ২১ রান যোগ করলে আবাহনীর রান চলে যায় দেড়শতে।
এরপর বল হাতেও প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটিংয়ে কাঁপুনি ধরিয়েছে এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। চার উইকেট নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের সামনে বাধার দেওয়াল তুলে দেন তিনিই। যার একটি আবার ভালো ফর্মে থাকা রনি তালুকদারের উইকেট।
সাইফউদ্দিনের তোপের মুখেও প্রাইম ব্যাংকের এক প্রান্ত ধরে রাখেন ওপেনার রুবেল মিয়া। কিন্তু সেটা যে পরিস্থিতির দাবির সঙ্গে যাচ্ছিল না! ৪১ রান করতে তিনি খেলে ফেলেন ৪৩টি বল এবং তাতে দলের ওপর চাপটাই বেড়েছে।
কৌশলেও বড় ভুল করেছে প্রাইম ব্যাংক। ভালো খেলতে থাকা অভিজ্ঞ অলককে নামানো হয় আটে। অথচ ১৭ বলে ৩৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জয়ের ক্ষীণ আশাটা সেই অলকই জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর সঙ্গে একজন থিতু ব্যাটসম্যান থাকলেও হয়তো ম্যাচের ফলাফল ভিন্নও হতেও পারত।
সেটি হয়নি। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে টানা তৃতীয় শিরোপা জিতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আবাহনী মেতেছে বুনো উল্লাসে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : আবাহনী লিমিটেড
আবাহনী লিমিটেড : ১৫০/৭ (২০ ওভার)
শান্ত ৪৫, মোসাদ্দেক ৪০, সাইফউদ্দিন ২১*
রুবেল ২২/২, রুবেল ১৮/১
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব : ১৪২/৯ (২০ ওভার)
রুবেল ৪১, অলক ৩৪*, নাঈম ১৯
সাইফউদ্দিন ২২/৪, রানা ৩০/২
ফল : আবাহনী লিমিটেড ৮ রানে জয়ী।
আপনার মন্তব্য