০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৪:২৬
চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামার কথা ছিল আফগানিস্তানের। ভেন্যু, সূচি সবই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর বদলে গেছে বাস্তবতা। রশিদ খানদের জন্য এসেছে হতাশার খবর। নারীদের খেলা নিয়ে তালেবানের অবস্থানের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট বাতিল করতে যাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নারী ক্রিকেটের বিরুদ্ধে তালেবানের অবস্থানের পর ২৭ নম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া হোবার্ট টেস্ট আয়োজন আর এগুনো যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে তারা বলে, 'বৈশ্বিকভাবে নারীদের ক্রিকেটের প্রসার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ক্রিকেট খেলাটা সবার জন্য, আমরা প্রতিটি স্তরে নারীদের খেলাধুলা সমর্থন করি।'
'সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে আফগানিস্তানে মেয়েদের খেলাধুলা বন্ধ হতে যাচ্ছে, এসব সত্য হলে আফগানিস্তানের সঙ্গে হোবার্ট টেস্ট বাতিল করা ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প থাকছে না।'
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় এসবিএস নিউজের সঙ্গে আলাপে তালেবান সরকারের প্রতিনিধি আহামাদুল্লাহ ওয়াসিক জানান, ইসলামিক আইন অনুযায়ী মেয়েদের খেলাধুলার অনুমোদন নেই, 'ইসলাম ও ইসলামিক রাজ্যে মেয়েদের ক্রিকেট বা অন্য কোন খেলাধুলা করার নিয়ম নেই।'
'ক্রিকেটে সম্পূর্ণ শরীর ও মুখ ঢেকে খেলা যায় না কাজেই এটা ইসলাম অনুমোদন করে না। এটা মিডিয়ার যুগ। মেয়েদের ছবি ও ভিডিও প্রচার হবে যা মেনে নেওয়া যায় না।'
আফগান প্রতিনিধি আরও বলেন, ছেলেদের ক্রিকেট খেলা সমর্থন করলেও মেয়েদের খেলার ব্যাপারে কোনভাবেই নমনীয় হবে না তাদের সরকার।
এই বার্তার পরই শঙ্কায় পড়ে যায় হোবার্ট টেস্টের ভাগ্য। মেয়েদের খেলাধুলা নিয়ে তালেবানের এমন অবস্থানের পর উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্পোর্টস মিনিস্টার সিনেটর রিচার্ড কোলব্যাক আফগানিস্তানের এমন নীতির বিরুদ্ধে আইসিসিকে অবস্থান নেওয়ার আহবান জানিয়েছে। তিনি বলেছেন তালেবান পতাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কেউ স্বাগত নয়।
২০১০ সালে আফগানিস্তানে মেয়েদের ক্রিকেট চালুর পর বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল তা। গত বছর ৩০ জন নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিয়ে এসেছিল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পরই শঙ্কায় পড়তে থাকেন নারীরা। অনেকেই প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
তালেবান এর আগে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় থাকার সময় পুরো ক্রিকেটই নিষিদ্ধ ছিল। পরে ২০০০ সালে তারা ছেলেদের ক্রিকেট খেলার সায় দেয়। তালেবানের পতনের পরের সময়টায় ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট-ফুটবলে বেশ এগিয়ে গিয়েছিল আফগানিস্তান। সেই অগ্রগামীতায় পড়ল বড় ছেদ।
এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বার্তা সংস্থা পিএ'র কাছে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আইসিসি নারী ক্রিকেটের বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বদ্ধপরিকর। আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চ্যালেঞ্জ থাকার পরেও ২০১৭ সালে আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ার পরে ধীরগতিতে হলেও একটা উন্নতি দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা তারা তদারকি করছে এবং নারীদের ক্রিকেট খেলতে দেওয়া হবে না এমন সংবাদও তাদের চোখে এসেছে।
আইসিসি তাদের পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়ে এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলাপ করবে বলে জানিয়েছে।
দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার তিন সপ্তাহ পরে মঙ্গলবার আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ঘোষণা করেছে, কিন্তু এই সরকারের নিয়ম কানুন নিয়ে এখনও সন্দেহ আছে বৈশ্বিক মহলে।
আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দল ইতোমধ্যে তালেবানদের সমর্থন পেয়েছে, তবে নারী ক্রিকেট দল না থাকলে সেটা ভবিষ্যতে পুরুষ ক্রিকেট দলেও প্রভাব ফেলবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, যে ১২টি দল পূর্ণ সদস্য তাদের অবশ্যই নারী ক্রিকেট দল থাকতে হবে, শুধু পূর্ণ সদস্যরাই টেস্ট খেলতে পারবে।
আপনার মন্তব্য