সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ১৬:৫৫

সেই লিটনই এখন দারুণ ধারাবাহিক

লিটন কেন দলে, এমন প্রশ্নও ওঠেছিলো। সমর্থকদের পাশপাশি খোদ ওয়াসিম আকরামও তুলেছিলেন এমন প্রশ্ন।

লিটনের সক্ষমতা আর টেকনিক নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিলো না কখনোই। প্রশ্ন ওঠেছিলো মাঠে সক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে। ধারাবাহিকতা নিয়ে। দল থেকে প্রায় বাদ পড়ার অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। অথচ সেই লিটনই এখন দারুণ ধারাবাহিক।

চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওপেনিংয়ে নেমে অনবদ্য শতরান তুলে নিয়েছেন লিটন। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূরণে ১০৭ বল খেলেছেন লিটন। তার ইনিংসে ছিল ১৪টি চারের মার।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছেন লিটন দাস। অনেক সমালোচনার পরও নির্বাচকেরা আস্থা রেখে গেছেন তার প্রতিভার ওপর। তাদের আশা ছিল সে আস্থার প্রতিদান তারা পাবেন ঠিকই।

ভুল ছিল না তাদের সে প্রত্যাশা। ক্যারিয়ারের প্রথম ৬ বছরে যেখানে সব ফরম্যাট মিলিয়ে তার ৩টি সেঞ্চুরি। সেখানে গত ৮ মাসে তার ব্যাট থেকে আসল ৪টি শতরান।

যার সবশেষটি আসল আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুক্রবার। চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওপেনিংয়ে নেমে অনবদ্য শতরান তুলে নিয়েছেন লিটন।

ক্যারিয়ারের পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূরণে ১০৭ বল খেলেছেন লিটন। তার ইনিংসে ছিল ১৪টি চারের মার।

শুরুতে দেখে শুনে খেলা লিটন ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বের হন তিনি। প্রিয় কাট ও পুল শটে তুলে নেন অধিকাংশ রান। স্কয়্যার অফ দ্য উইকেটে দুই প্রান্তে রান পেয়েছেন তিনি।

ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটানো লিটন সবশেষ ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন ৩ ম্যাচ আগে। গত বছর জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে আসে ১০২ রানের ইনিংস।

এরপর টেস্টে ছিলেন অসাধারণ ছন্দে। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এসেছে টেস্ট সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামে নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ১১৪। জানুয়ারিতে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে আসে ১০২।

সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন আফগানিস্তান সিরিজেও। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছেন লিটন। দুইজনের মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন দুই শ রানের জুটি।

রেকর্ড গড়া সেই জুটি ভাঙ্গে ১২৬ বলে ১৩৬ করে লিটনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে। পার্টনারের বিদায়ের পরের বলে ৮৬ করে ফেরেন মুশফিক। জুটিতে তারা বল খেলেছেন ১৮৪টি।

বাংলাদেশের হয়ে ২০২ রানের জুটিটি তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ। এর আগের সেরা জুটি ছিল তামিম ও মুশফিকের ১৭৮ রান ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

লিটন মুশফিকের ব্যাটে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩০৬। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত