স্পোর্টস ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ১৪:১২

নির্বিঘ্নেই শেষ হল যুব বিশ্বকাপ, জবাব পেল কি অস্ট্রেলিয়া?

মাঠের বাইরের ব্যবস্থাপনার সাথে মাঠেও দাপট ছিল বাংলাদেশের। সেরা ক্রিকেটারের পুরষ্কার নিচ্ছেন বাংলাদেশের মিরাজ

দেশের ৬ জেলার ৮টি ভেন্যুতে ১৬টি দেশের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশেই সম্পন্ন হল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপক্রিকেটের এবারের আসর। এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নিরাপত্তার অজুহাতে নাম প্রত্যাহার করে নেয় ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। তাদের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পায় আয়ারল্যান্ড।

তবে অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তার কারণে নাম প্রত্যাহার করলেও কোন রকমের সমস্যা ছাড়াই সফলভাবে এই আসর সম্পন্ন করতে পেরেছে বাংলাদেশ।
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে সবসময় সচেতন থাকা ইংল্যান্ড সর্বোচ্চ ৪টি ভেন্যুতে ঘুরে ঘুরে খেলেছে। এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও খুব সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে তারা।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস, প্রধান নির্বাহী (সিইও) ডেভ রিচার্ডসন ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সবার চোখে-মুখে তৃপ্তির হাসি। এ হাসি সফলভাবে যুব বিশ্বকাপ শেষ করার। তবে বেশি তৃপ্তি নিঃসন্দেহে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসানের।  অস্ট্রেলিয়ার অমুলক অভিযোগের জবাবদে মাথা উঁচু করেই দেয়া গেল।


২৭ জানুয়ারি থেকে  ১৪ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ১৮ দিন চলেছে মূলপর্বের ৪৮ ম্যাচের খেলা। দলগুলো বাংলাদেশে অবস্থান করেছে প্রায় মাসখানেক। এরপর থেকে ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ নয় এমন অভিযোগ তোলা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কঠিনই হবে হয়ত।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে নজিরবিহীনভাবে একেবারে শেষ মুহুর্তে সিদ্ধান্ত বাতিল করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ দলকেও যুব বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার করে নেয় তারা। সেই একই ‘নিরাপত্তা-ঝুঁকি’ দেখিয়ে।

অবশ্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন খোদ অনেক অস্ট্রেলিয়ান সাবেক তারকা ক্রিকেটারই। শেন ওয়ার্ন থেকে শুরু করে শেন জার্গেনসন তাদের সবার দাবি ক্রিকেটের জন্য দারুণ উপযুক্ত বাংলাদেশ।

ভারতের যুব দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় বাংলাদেশে কাটালেন অনেক দিন বললেন ; ‘বাংলাদেশে ২৪ দিন কাটালাম। এখানকার নিরাপত্তা, প্র্যাকটিস সুবিধা, হোটেলে আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। খুব ভালো সময়ে কাটিয়েছি। এক কথায় ‘অসাধারণ’।’

পুরো আয়োজন নিয়ে সন্তোষের কথা জানাচ্ছিলেন নিরাপত্তা প্রধান মেজর (অব.) হোসেন ইমামও।
 
কেবল নিরাপত্তাই নয়, আতিথেয়তার পাশাপাশি সরাসরি মাঠে গিয়েও সবগুলো টিমকে উৎসাহ যুগিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট পাগল মানুষ। ক্রিকেটের এমন উৎসবে ‘দূর অতীত’ হয়ে যায় সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনাও।

সফল আয়োজনের পাশাপাশি মাঠের ক্রিকেটেও দাপট ছিল বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টে তৃতীয় সেরা হয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল।

অস্ট্রেলিয়া কি নিজেদের বঞ্চিত ভাববে? নিরাপত্তার কারণ যে খুব যৌক্তিক ঠেকছে না ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কারোরই। এমন একটি দুর্বল কারণে তাদের ভবিষ্যৎ তারকাদের গুরুত্বপূর্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার পর কি সবকিছু নতুন ভাবে দেখার বার্তাও কি পেল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া?

আপনার মন্তব্য

আলোচিত