নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩০

মাজারের ডেগে পাওয়া চিরকুটে লেখা- ‌‌'সারওয়ার আলম ফিরে আসুক সিলেটে'

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয়বারের মতো গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে টাকা গণনা শুরু হয়। জেলা প্রশাসন ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে গণনা চলছে।

মাজারের তিনটি ডেগ ও ছোট-বড় ৫টি দানবাক্সে মোট ৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। টাকার সাথে পাওয়া গেছে কয়েকটি চিরকুটও।

এসব চিরকুটে কেউ লিখেছেন- চাকরি পেলে মাজারে খাসি দান করবেন, আবার কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের কথাও লেখা রয়েছে কোন কোন চিরকুটে।

তবে আবু জলিল হাবিব নােম একজেনর নামে একজনের নামে পাোয়া চিরকুটে সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এই চিরকুটেই খোকন নামে একজনের বিরুদ্ধে নানা অিভেযাগো আনা হয়েছে।

চিরকুটে লেখা রয়েছে- 'খোকন বাটপার সে মাজারের গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ বেচাকেনা করে। মাজারের খাদেমের অর্ধেকও বেশী তার ইশারায় চলে। খোকনের কারণে পূর্বের অনেক কর্মরত কর্মচারী চাকরি হারা, তাদের মধ্যে কিছু সবজি বিক্রি করে জীবন জীবিকা চালান। আমি চাই তার সঠিক বিচার হউক'।

চিরকুটের শেষ অংশে লেখা রয়েছে- ‌'সারোয়ার আলম ফিরে আসুক সিলেটে'।

চিরকুটের উল্লেখিত খোকন নামের ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হোয়া যায়নি। আর সারোয়ার আলম ছিলেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক। তিনিই শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ২১ জুন সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একটি সূত্র দাবি করেছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়।

গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনা চলাকালেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘদিনের চেনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডিসি সারওয়ার আলম। তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে যেমন প্রশংসা ও নানামুখী আলোচনার ঝড় ওঠে, তেমনি তৈরি হয় বিতর্কও। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। মাজারের দানবাক্সে হাত দেওয়ার পরপরই ডিসির এমন আকস্মিক বদলি হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত