নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০৮

সাক্ষীর অভাবে আটকে আছে রাহাত হত্যা মামলার অভিযোগপত্র

২০২১ সালের সিলেটের আলোচিত ঘটনা ছিল দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) হত্যাকাণ্ড। গত ২১ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ গেটের ভেতরে খুন হন রাহাত।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সুরমান আলীর ছেলে ও দক্ষিণ সুরমা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে পড়া লেখার পাশাপাশি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন রাহাত। ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ বিরোধের জেরেই রাহাতকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাদী।

তবে সাক্ষীর অভাবে ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসায় এখনো মামলার চার্জশিট হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।    

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ অক্টোবর রাহাতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় সামসুদ্দোহা সাদি, তানভির ও সানির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলাটি ছায়া তদন্ত করে কুষ্টিয়া থেকে শামসুদ্দোহা সাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর মামলার অপর দুই আসামি তানভির ও সানি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তানভির বর্তমানে জামিনে আছেন।   

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র উপ-পরিদর্শক রিপন কুমার দেব বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বাকী দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আসামি তানভির ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিনে আছেন। মামলায় কিছু সাক্ষ্য, প্রমাণ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রয়োজন।

তিনি বলেন, তার সহপাঠীরা দেখলাম কত আন্দোলন করলো কিন্তু এখন কেউ সাক্ষ্য দিতে আসতেছে না। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে আসলে আর কিছু স্বাক্ষীগ্রহন শেষ হলেই মামলার চার্জশিট দিয়ে দেব।

এ ব্যাপারে আরিফুল ইসলাম রাহাতের চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম রাফি বলেন, এ মামলার তিনজন আসামি জেলে ছিল। তবে তানভির এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বর্তমানে জামিনে আছে। এখনো চার্জশিট হয়নি। সিআইডি তদন্ত করছে।    

প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম রাফিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে যান রাহাত। সেখানে মোবাইল ফোনে বন্ধুদের না পেয়ে সোয়া ১২টার দিকে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেন। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসার সময় প্রধান ফটকের ভেতরে থাকা অবস্থায় আরেকটি মোটরসাইকেলে করে এসে অতর্কিতভাবে রাহাতের উরুতে ছুরিকাঘাত করেন ছাত্রলীগের কর্মী সামসুদ্দোহা সাদি ও তার সহযোগী তানভির।

পরে রাহাতকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টাকালে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। রাহাত খুনের পর ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজে পাঠদান বন্ধ ছিল। ঘটনার মূল অভিযুক্ত শামসুদ্দোহা গ্রেপ্তারের পর থেকে কলেজে আবার পাঠদান শুরু হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত