নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ জুলাই, ২০২৩ ১৬:৩৯

গণমাধ্যমে বিদেশিদের মন্তব্যের অতিপ্রচারে তারা মজা পায়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বিদেশিদের মন্তব্য অতিপ্রচারের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে তারা মজা পায়, তারা নিজেদের সম্রাট মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে বিদেশিদের মন্তব্য অযাচিত। বিদেশে প্রায় লোক মেরে ফেলে, কিন্তু এগুলো নিয়ে আমরা কখনো হইচই করি না। আমাদের দেশের মিডিয়া ওদের (বিদেশিদের) খুব বেশি পাত্তা দেয়। ওরা বললেই বড় করে দেখে। এর ফলে ওরা মজা পায়। মনে করে, তারা এই দেশের সম্রাট। তাই তারা যেকোনো বিষয়ে কথা বলে।’

শুক্রবার (২১ জুলাই) দুপুরে সিলেট শিল্পকলা একেডেমিতে সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৪০ জন মারা গেলো। একটা দেশও কথা বলেনি। আর আমাদের দেশে কে কী করল সাথে সাথে চিৎকার। এটি অভন্তরীণ বিষয়ের উপর হস্তক্ষেপ। যা জেনেভা কনভেনশনের ধারেকাছেও নেই।

পৃথিবীর আর কোথাও রাষ্ট্রদূতরা দল বেঁধে মন্তব্য করে বেড়ায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, বিদেশি অ্যাকটিভিস্ট রাষ্ট্রদূত যারা, তারাও আগামীতে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি যা বলতে চাচ্ছি, বিভিন্ন দেশে লোক যে মারা যায়, ইউএন কিংবা বিভিন্ন দেশ দল বেঁধে বা অ্যাকটিভিস্ট রাষ্ট্রদূতদের কখনো কোনো স্টেটমেন্ট দিতে আমি দেখিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি কেউ দেখেছেন, দেখে থাকলে বলেন, কোন কোন দেশ দল বেঁধে বা অ্যাকটিভিস্ট রাষ্ট্রদূতরা স্টেটমেন্ট দিয়েছেন?’

বিএনপির চলমান আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগের বিষয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বহু বছর সদস্য ছিলেন। এটি ব্রিটিশ অর্গানাইজেশন। ব্রিটিশরা তাদের মতো অনেক সময় কাজ করে। তবে হ্যাঁ, প্রাইভেট ফান্ডিংও হয়। ব্রিটিশরা মোটামুটি চালায়।

এসময় তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্যকারীদের বয়কট করতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা নেওয়ারও আহ্বান জানান। তাদের দেশের পুলিশ কী করে, সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে পাঁচজন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে আবৃত্তিশিল্পী রোহেনা সুলতানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সংস্কৃতি কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশ গুপ্ত।

সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এ বছর ৫ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২২ পদকপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন মিহিরকান্তি চৌধুরী (লোকসংস্কৃতি), পূর্ণিমা দত্ত রায় (কণ্ঠসংগীত), চম্পক সরকার (নাট্যকলা), জ্যোতি ভট্টাচার্য্য (আবৃত্তি) ও মো. মিনু মিয়া (যন্ত্রসংগীত)।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত