২৬ জুলাই, ২০২৩ ২১:১৯
সিলেটের বিশ্বনাথে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জায়গায় বেআইনিভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগে বুধবার সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ ৯জনকে অভিযুক্ত করে মোস্তফা মিয়া বাদী হয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট ইমরুল হাসান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ৩মে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একই আদালতে মামলা দায়ের করেন মোস্তফা মিয়া, (বিবিধ মামরা নং ৩৭/২০২৩ইং)। মোস্তফা মিয়া উত্তর দৌলতপুর গ্রামের হাজী আব্দুল লতিফের ছেলে। আর অভিযুক্তরাও একই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্তরা হচ্ছেন, উত্তর দৌলতপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আলা মিয়া (৪০), মৃত আব্দুল সত্তারের ছেলে মাসুক মিয়া (৫৫), আব্দুস ছত্তারের ছেলে শফিক মিয়া (৪০), গজম্বর আলীর ছেলে ইরন মিয়া (৪০), কালা (৩৩), আব্দুর রশিদের ছেলে শায়েখ মিয়া (৪০), মৃত ইমান আলীর ছেলে লাল মিয়া (৩৫), সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ধন মিয়া (৩২) এবং মৃত ছনুফর আলীর ছেলে কুতুব উদ্দিন (৩৫)।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বিশ্বনাথের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের আলা মিয়া পক্ষের হামলায় মোস্তফা মিয়া, তার পক্ষের মসজিদের ঈমাম ও নারীসহ ৭ জন আহত হন। এ ঘটনার পরদিন ১৯ এপ্রিল ১৯জনকে আসামি করে মোস্তফা মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং (১৩)। এরপর গত ৩মে আলা মিয়া, মাসুক মিয়া ও ইরন মিয়াকে অভিযুক্ত করে নির্মানাধীন ভবনের সাটারিংয়ের মালামাল জব্দ করতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে সেখানে ১৪৪ধারা জারি করা হয়। এরপর বিশ^নাথ থানা পুলিশের এসআই অমিত সিংহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মানার নির্দেশ দেন। তারপর আদালতে হাজিরা দিয়ে করাণ দর্শানোর নোটিশও জারি করা হয়, কিন্তু কোন জবাব দেননি অভিযুক্তরা।
উল্টো ১৪৪ধারা জারির ওই জায়গায় কিছু দিন পরপরই আলা মিয়া পক্ষের লোকজন নির্মানাধীন ভবনের সাটারিংয়ের মালামাল খোলে নেন এবং দলবল নিয়ে মহড়া দিয়ে উত্তেজনা সৃস্টি করেন। গত সোমবার (২৪ জুলাই) থেকে আবারও নির্মানাধীন ভবনের সাটারিং খোলেন এবং দলবল নিয়ে মহড়া দেন। এতে দু’পক্ষে আবারও সংঘর্ষের আশংকা দেখা দেয়। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার প্রথম ৩জনসহ আরও ৪জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে লিখিত অভিযোগ দেন মোস্তফা মিয়া।
বিশ^নাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, উত্তর দৌলতপুরে আইনশৃঙ্খলা বিঘিœত কোন কাজ করতে দেওয়া হবেনা। আদালতের নির্দেশনা মতে শিঘ্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য