২৮ জুলাই, ২০২৩ ০০:৫২
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে অমূল্য নাথ (৬১) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অমূল্য নাথ উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের মৃত হরকুমার দেবনাথের ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
গ্রামবাসিরা জানান, অমূল্য নাথ দীর্ঘদিন ধরে শায়েস্থাগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ডে ওই এলাকার স্থানীয় এক ব্যাক্তিকে নিয়ে যৌথ মালিকানায় হোটেল ব্যবসা করতেন। ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে শায়েস্থাগঞ্জ এলাকায় কিছু দাদন ব্যবসায়ীর কাছে ঋন নেন। ঋনের সুদাসল পরিশোধ করতে দাদন ব্যবসায়ীরা তাকে চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তাদের চাপে শায়েস্থাগঞ্জ ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। বাড়ি ফিরে এলে সমাজের লোকজন তার হোটেলে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে অমূল্য নাথকে সমাজচ্যুত করে রাখে। পরে তার ছেলেরা বাবার সম্পত্তি নিজেরা কিনে স্থানীয় ও শায়েস্থাগঞ্জ দাদন ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করে। সহায় সম্পত্তি হারিয়ে সমাজচ্যুতির কারনে লোকলজ্জার ভয়ে অমূল্য নাথ প্রায় এক বছর আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১ বছর পর তার নিজ বাড়ি ছাতিয়াইন থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিনে ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের একটি নির্মানাধীন ভবনে তার অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়। ধারনা করা হচ্ছে ৪/৫ দিন ধরে অমূল্য নাথের মরদেহটি ওই স্থানে পড়েছিল। অমূল্য নাথ কি রাগে ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে। নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
নিহত অমূল্য নাথের ছেলে অসিত দেবনাথ সাংবাদিকদের বিস্তারিত বলতে রাজি নন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পকেটে থাকা ভোটার আইডি কার্ড থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোক্তাদির হোসেন পিপিএম জানান, অমূল্য নাথ এখানে মারা যায়নি। তাকে কোথাও মেরে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহ ফুলে পচে যাওয়ায় সুরতহালে কিছু ধরা পড়বে না।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। মযনাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।
আপনার মন্তব্য