১৬ মে, ২০২৪ ২২:৪৬
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় রাত-দিন নির্বাচনের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। গণসংযোগ, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যস্ততা বেড়ে উঠান বৈঠকে। তবে ভোটের ডাকে সাড়া নেই ভোটারদের। ভোটকে আর আগের মতো উৎসব বলে মনে করছেন না ভোটাররা। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যস্ততা।
প্রার্থীদের ঘিরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে দ্বিধা-বিভক্তি চরমে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী চাচা-ভাতিজা। সোমবার দুপুরে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা।
আগামী ২৯ মে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তারা হলেন- উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম(কাপ পিরিচ), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছিত টুটুল(মোটর সাইকেল), উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মুরাদ(ঘোড়া), ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশফাকুল ইসলাম সাব্বির(আনারস) ও এডভোকেট সুলতানা রাজিয়া ডলি(দোয়াত কলম)।
পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে চারজনই আওয়ামী লীগের। এনিয়ে দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে কোন্দল। নুরুল ইসলাম আওয়ামী ঘরানার মানুষ। ১৯৯১ সালে ও ২০১৯ সালে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একটি অংশের ভোট পেয়েছিলেন। আবদুল বাছিত টুটুল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দীর্ঘদিন থেকে পালন করছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন টুটুল। কিন্তু দলীয় কোন্দলের কারণে ভরাডুবি হয় তার। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় টুটুলের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তার ভাতিজা।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাব্বির স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘনিষ্ঠজন। ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে হাবিব নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাব্বিরের অবস্থান মজবুত হতে থাকে। বর্তমানে দলীয় কোনো পদে না থাকলেও নেতাকর্মীদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেন সাব্বির।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ায় ফেঞ্চুগঞ্জে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রেখেছেন ও আর্থ-সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় শক্তিশালী একটি বলয় সৃষ্টি হয়েছে তার।
জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কেএম টিলা গ্রামের বাসিন্দা চাচা-ভাতিজা। সম্পর্কে টুটুলের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সাব্বির। দুই প্রজন্মের সম্পর্ক হলেও উপজেলার সবাই তাদের আপন চাচা-ভাতিজা মনে করেন। এ অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তাই ভোটের মাঠে আলোচনায় চাচা-ভাতিজার ভোটযুদ্ধ।
এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী প্রার্থী সুলতানা রাজিয়া ডলি। তিনি দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। পরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। ভোটারদের কাছে তার পরিচিতি না থাকলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
অন্যদিকে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। ভোটের মাঠে প্রার্থীরা সরব হলেও নীরব ভোটাররা। ভোট নিয়ে বাড়তি কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই ভোটারদের মাঝে। ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে প্রার্থীদের। হাট-বাজারের চায়ের দোকানেও জমছে না ভোটের কথা। চারিদিকে নীরবতা। আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী ব্যতীত কারোও মধ্যে নেই ভোটের আমেজ। নীরবতা ভেঙে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন ভোটাররা, এমনটাই আশা করছেন প্রার্থীরা।
উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার ৮৮ হাজার ৫৫১ জন।
আপনার মন্তব্য