০৯ জুলাই, ২০২৪ ০১:০৯
বন্যার মধ্যে সিলেটে আজ মঙ্গলবার (৯জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি । তবে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা বলছেন, ঘরে পানি প্রবেশের কারণে ছেলে-মেয়েরা ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারেনি। পরীক্ষায় কী আসবে, কী লিখবে তারা সবই অনিশ্চিত।
সোমবার (৮জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় সুরমা নদীর পানি একটি পয়েন্টে ও কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জের ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পরীক্ষা শুরুর আগের দিন পর্যন্ত সিলেটের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এরমধ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ও বালাগঞ্জ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পানি রয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষা কেন্দ্র দক্ষিণ সুরমা কলেজে পানি থাকলেও পরীক্ষার হলের মধ্যে পানি নেই। পরীক্ষায় কোনো প্রভাব পড়বে না। আর বালাগঞ্জ ডি এন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পানি থাকায় সেখানের বদলে বালাগঞ্জ সরকারি কলেজে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
জানা যায়, বন্যা পরিস্থিতির কারণে সিলেট বিভাগের চার জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। গত ৩০ জুন ওই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সিলেট বিভাগে। প্রথম দিনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আবশ্যিক) বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েই সিলেট বিভাগে মূলত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।
শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিভাগের চার জেলা। পুরো বিভাগের ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২ হাজার ৭৯৫ পরীক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ৫৯০ জন ছাত্র এবং ৪৯ হাজার ২০৫ জন ছাত্রী। এর মধ্যে সিলেটে ৩৫ হাজার ৬২০, সুনামগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৬৪, মৌলভীবাজারে ১৬ হাজার ৫০৮ ও হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৩ পরীক্ষার্থী আছেন। বিভাগের চার জেলায় মোট ৮৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৩৩টি, সুনামগঞ্জে ২২টি, মৌলভীবাজারে ১৪টি ও হবিগঞ্জে ১৮টি।
গত ২৯ মে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। সবশেষ ১৭ জুন শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে সিলেটে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়। এতে সিলেট নগরীর ২৪টি ওয়ার্ডসহ ১৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ১৩টি উপজেলা কমবেশি প্লাবিত হয়। এ অবস্থায় আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট বিভাগের এইচএসসি, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, কলেজের প্রবেশ পথে পানি রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাস্তায় বালুর বস্তা দেয়া হয়েছে। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পানি রয়েছে। তবে সেগুলোতে পরীক্ষার হল রাখা হবে না।
বালাগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক বলেন, আমাদের বালাগঞ্জ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় ভেন্যুর মধ্যে পানি রয়েছে। এই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা বালাগঞ্জ সরকারি কলেজে পরীক্ষা দেবে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এখন। কেন্দ্রের আশপাশে পানি থাকলেও কেন্দ্রের মধ্যে কোনো পানি নেই। এ কারণে ৯ তারিখে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত।
আপনার মন্তব্য