গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৪

গোয়াইনঘাটে চাচাতো বোনকে ‘ধর্ষণ’, অভিযোগ করায় বড় ভাইয়ের হাত ছোট ভাই নিহত

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ভাতিজার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনায় এক ভাইয়ের দায়ের কোপে আরেক ভাই নিহত হয়েছেন।

শনিবার উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট গ্রামের পূর্ব দীঘিরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কলিম উল্লাহ (৫৫) ও হামলাকারী সাইফুল্লাহ (৬০)সম্পর্কে আপন ভাই। এ ঘটনায় সাইফুল্লার এক ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কলিম উল্লাহর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার আপন চাচাতো ভাই জুবের আহমদের (১৮) বিরুদ্ধে। জুবেল আহমদ হামলার দায়ে অভিযুক্ত সাইফুল্লার ছেলে। পরে স্থানীয়রা জুবের আহমদকে আটক করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য বুধবার রাতে বৈঠক হয়। এর মধ্যে জুবেরের বাবা সাইফুল্লাহ জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় ছেলের বিয়ে ঠিক করেন। গত শুক্রবার রাতেই জুবেরের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে সালিশে বিচার না পেয়ে গ সপ্তাহে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন কলিম উল্লাহ। অভিযোগের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল এসআই নাঈমুলকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

পরে শনিবার এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। এ সময় কলিম উল্লাহর সঙ্গে তার ভাই সফুল্লাহর কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একপর্যায়ে সয়ফুল্লাহ দা দিয়ে পুলিশের সামনেই কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। দা’র আঘাতে কলিম উল্লাহর গলার বাম পাশে গুরুতর জখম হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সাইফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, কলিম উল্লাহ নিহতের ঘটনায় আমির উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের সামনে হামলা চালানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত