সিলটেটুডে ডেস্ক

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১০

হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের নিশ্চয়তা পেলে ভারত যাবেন প্রধানমন্ত্রী

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ভারতের মাটিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধের বিষয়ে দিল্লির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা চায় বাংলাদেশ সরকার। এই নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়া দিল্লি সফর চূড়ান্ত হবে।

ঢাকার একাধিক সরকারি সূত্রের বরাতে গত ১৪ আগস্ট বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ইতিমধ্যে এ বিষয়ে এক ধরনের প্রাথমিক আশ্বাস দিলেও বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত করার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চাইছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা সেখান থেকে নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, তার এসব বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরে বিতর্ক সৃষ্টি করছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলা।

এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে। সূত্রমতে, আগামী ২১-২২ আগস্ট দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে তিনি নয়া দিল্লি যেতে পারেন। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ কয়েক দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে।

বিবিসি বাংলার তথ্য অনুযায়ী, এই সফরের প্রস্তাবটি ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে যে, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তিনি দুই দিনের সফরে ভারতে যেতে পারেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ফলে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরের আয়োজন করা হচ্ছে।

সফরের পাশাপাশি, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত