নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মে, ২০১৬ ১৩:৪৩

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সহকারী রেজিস্ট্রার খন্দকার মকসুদ আহমদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিমল চন্দ্র শিকদারের আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

মামলার বাদীপক্ষের অন্যতম আইনজীবী রেজাউল করিম খান জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর এই দম্পতির বিয়ে হয়। বিয়ের পর মকসুদ আহমদের মতামত নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যান তাঁর স্ত্রী। পড়াশোনার ফাঁকে তাঁর স্ত্রী কয়েকবার দেশে ফেরেন। তখন যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর মকসুদ আহমদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নানা নির্যাতন চালাতেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নিজের সুখশান্তির কথা ভেবে পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন মকসুদ আহমদের স্ত্রী। গত ৩০ মার্চ তিনি দেশে ফেরার পর তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা পুনরায় তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।
মামলায় মকসুদ আহমদ ছাড়াও তাঁর পরিবারের চারজন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মকসুদ আহমদের মা, বাবা, ভাই ও এক মামা। তাঁদের সবার বসবাস সিলেট নগরের শাহপরান থানার খাদিমনগর এলাকায়।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মকসুদ আহমদ দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদেশে থাকা অবস্থাতেই তিনি তাঁকে তালাক দেন। তিনি ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো তাঁর স্ত্রীই তাঁকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন।
তবে তালাকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মকসুদ আহমদের স্ত্রী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত