অরণ্য রনি

১৩ মে, ২০১৬ ০০:১৩

স্কলার্সহোমের টিউশন ফি একলাফে বেড়ে গেলো ৬০০ টাকা, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

হঠাৎ করেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সিলেটের সুনামখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম'র টিউশন ফি। কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বছরের মাঝামাঝি সময়ে মাসিক টিউশন ফি ১৪০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০০০ টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আচমকা টিউশন ফি বাড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

হাফিজ মজুমদার ট্রাস্ট নামের একটি সেবা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত স্কলার্সহোম'র এই টিউশন ফি বৃদ্ধিতে অনৈতিক দাবি করে এর প্রতিবাদে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান অনেক অভিভাবক।

জানা যায়, সম্প্রতি বেতন বৃদ্ধির কথা জানিয়ে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছে একটি নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে বেতন বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়- 'সম্প্রতি জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সরকারী ও বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই সাথে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্কলার্সহোমের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা সমপর্যায়ের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম। এর ফলে দক্ষ,অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের  স্কলার্সহোমে ধরে রাখা ও তাদের দ্বারা অব্যাহতভাবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হবে।'

এ কারণে ৬শ টাকা করে বেতন বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে আগামী জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সিলেটে স্কলার্সহোমের ৬ টি ক্যাম্পাস রয়েছে। এতে প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক শ্রেণীর টিউশন ফি-ই সমান।

স্কলার্সহোম'র শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত পরিবারের। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এতো টাকা বেতন বাড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

আব্দুল বাতিন ফয়সল নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, হঠাৎ  করে বেতন বৃদ্ধি অভিভাবকদের উপর একটি বাড়তি চাপ।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালের ভর্তি ফর্মে উল্লেখ ছিলো- ২০১৭ সালে বেতন ২০০ টাকা বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ কোন নিয়ম নীতি না মেনেই বছরের মাঝখানে জুলাই মাসে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলো তাও আবার ৬০০ টাকা। যা একেবারেই অনৈতিক।

পারভিন আক্তার নামে আরেক অভিভাবক বলেন, হঠাৎ করে বেতন বৃদ্ধি করা উচিত হয়নি। স্কলার্সহোমে এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। কলেজ খোলার পর কর্তৃপক্ষের সাথে  এ ব্যাপারে অভিভাবকরা আলোচনা করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অন্তত পাঁচ জন অভিভাবক বলেন, মধ্যবিত্ত সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য বেতন বৃদ্ধি একটা ধাক্কা। যদি একান্তই বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজন তাহলে অভিভাবকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া যেতো।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, আগামী ১৭ মে স্কলার্সহোমের ইলেকট্রিক সাপ্লাই শাখায়  বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে অভিভাবকরা সভা করবেন। এদিন তারা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবেন। এই সভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে হাফিজ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্টের একাডেমিক প্রধান অধ্যাপক ড. কবির চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্কলার্সহোম'র পাঠানটুলা ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রকাশ দাস বলেন, সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করায় জীবন-যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের বেতনে শিক্ষকদের ধরে রাখা যাচ্ছে না। তাদের বেতন বাড়াতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকাল বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লে গ্রুপের একজন শিক্ষার্থীর বেতন ১৫/১৬’শ টাকা। সে তুলনায় স্কলার্সহোমের বেতন ১৪’শ থেকে ২ হাজার টাকা করা হলেও তা খুব বেশি নয়। বরং অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে তুলনামূলক কম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত