১৫ মে, ২০১৬ ১৯:৩২
জামালগঞ্জের ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রতিপক্ষ মাঠে আর বিএনপির প্রার্থীর প্রতিপক্ষ ঘরে। অপরদিকে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর প্রতিপক্ষ তার নিজ ঘরেই তার চাচাতো ভাই।
আ:লীগ মনোনীত প্রার্থী করুনা সিন্ধু তালুকদার,আর দলের বিদ্রোহী হয়ে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান,সাবেক ছাত্র নেতা সাধন চন্দ্র তালুকদার ও দলীয় নেতা নূরু মিয়া। বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোঃ: জুলফিকার চৌধুরী, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী তার নিজ গ্রাম ফেনারবাকের বিএনপি প্রার্থীর চাচাতো ভাই ইফতেখার চৌধুরী ও অপর বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ: হারুন অর রশীদ।
অবশ্য দুদলের প্রার্থীই তাদের ভোটে বিদ্রোহীরা কোন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবেনা বলেও তারা জোর গলায় জানিয়েছেন।
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ফেনারবাকের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, প্রথম দফায় নৌকার টিকেট প্রাপ্ত অপর বিদ্রোহী প্রার্থী সাধন চন্দ্র তালুকদার,আর তৃণ মুলের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোঃ: নূরু মিয়াও মাঠে খেয়ে না খেয়ে কোমরে দড়ি বেধে নেমেছেন। সকল প্রার্থীই এবারের নির্বাচন তাদের প্রেস্টিজ ইস্যু মনে করছেন।
বিশেষ করে ফেনারবাকের ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা নয় মৌজা। এই নয় মৌজায় দীর্ঘ দিন ধরেই দুটি শক্ত বলয় রয়েছে। এত দিন করুনা সিন্ধু তালুকদার ও জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টুর মধ্যে ভোট যুদ্ধ হলেও সাবেক ছাত্র নেতা সাধন চন্দ্র তালুকদারের আত্মীয় স্বজন ও তার অনুসারী ব্যাপক। যার দরুন নয় মৌজার ভোটে ব্যাংক দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে সুরমা নদীর তীরবর্তী নন সিলেটী গ্রাম গুলির অধিকাংশ জনগণই দীর্ঘ দিন ধরে নৌকার বাক্সে ভোট দিয়ে আসছেন। এবার হবে ব্যতিক্রম।
কারন নদীর পাড়ের গ্রাম আলীপুর থেকে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। একই ভাবে ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ও তৃণমূল আওয়ামীলীগের প্রার্থী নূরু মিয়াও একাট্টা হয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।
সব মিলিয়ে ফেনারবাকের নৌকার পালে হাওয়া না লাগার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন প্রবীণ ভোটাররা। অবশ্য স্থানীয় আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্বের অবসান না হলে ঘাঠে এসে তরী ডুবতে পারেন বলেও সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।
অপর দিকে বিএনপির প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত ভাবে প্রচারণায় নেমেছেন তারই চাচাতো ভাই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইফতেখার চৌধুরী। স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে থেকেই স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের দিন গুলিতে ফেনারবাক কেন্দ্রের ভোটের একটা অংশ বাইরের প্রার্থীর বাক্সে যাওয়ার রীতি আছে।
সাবেক চেয়ারম্যান আলী আমজাদ চৌধুরী,আব্দুল খালেক তালুকদার জনপ্রিয় ও গ্রামের একনিষ্ঠ প্রার্থী হলেও সেই সময়েও তাদের বিরুদ্ধে ভোট চলে যেত অন্য প্রার্থীর পক্ষে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা বলে জানিয়েছেন তাদের ঘনিষ্ঠজন ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বিএনপির অপর বিদ্রোহী প্রার্থী হারুন উর রশীদের গ্রাম কামধরপুর ও গজারিয়ার অধিকাংশ ভোটই বিএনপির ছিলো কিন্তু এবার হারুন উর রশীদ ভোটে নতুন করে ভাগ বসাবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ: হারুন অর রশীদ,ইফতেখার চৌধুরী জানান,জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা জনগণে বিশ্বাসী দলে কাকে দিল না দিল সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।মাঠে আছি,৪ জুনই প্রমাণ হবে।
বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোঃ: জুলফিকার চৌধুরী জানান,কেউ দলের মনোনয়ন চেয়ে না পেলে সে বিদ্রোহী প্রার্থী,আমি ছাড়া কেউ দলের না, হারুন উর রশীদ ও ইফতেখার তারা আদৌ বিএনপির কিনা আমার জানা নেই। অবশ্য ইফতেফার চৌধুরী আমার চাচাতো ভাই। সেও আমাদের ভোটে কোন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবেনা।
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাধন চন্দ্র তালুকদার জানান,আমি নৌকার টিকেট পেয়েছিলাম,শেষ সময়ে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিকেট নিলেও জনগণের ভোট কেউ ছিনাতে পারবেনা তা ভোটেই প্রমাণ করবো।
অপর বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান,আমি ভাই এত সব বুঝিনা,আমি বুঝি জনগণের কাছে ছিলাম,আছি,মরণের আগেও থাকবো। জনগণই ভোটরে মাধ্যমে প্রমাণ করবো আমি তাদের জন্য কি করেছি।
আওয়ামীলীগের প্রার্থী করুণা সিন্ধু তালুকদার জানান,নয় মৌজায় বিদ্রোহী প্রার্থীর আত্মীয় ও কোন্দলের কারনে কিছু ভোট পাব না,তাছাড়া আমার কোন ক্ষতি হবেনা। আর নদীর পাড়ের প্রার্থীরা নির্বাচনে অন্য ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন।
আপনার মন্তব্য