১৯ মে, ২০১৬ ১৪:৩৯
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে সিলেটের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মানবন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়ে সাংসদ সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবি করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালিত হয় শাহজলাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট টিচার ট্রেনিং কলেজে।
মানববন্ধন শেষে সমাবেশে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষক লাঞ্ছনার হোতা জাপা সাংসদ সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবি করেন।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সংগঠন শিক্ষক ফেডারেশনের ডাকে এই কর্মসূচিতে শাবিপ্রবিতে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে অংশ নেন প্রায় সব শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি এর সাধারণ সম্পাদক ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড এর সঞ্চালনায় এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নূর হোসেন মিঞা এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডু বলেন , শিক্ষককে যদি এভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, তাহলে জাতির আর কি থাকে! এটি কোন সমাজের জন্য কল্যাণ হতে পারে না। তাই দ্রুত এই হীনকাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার করতে হবে।
উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরাও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সঠিক বিচার দাবি করেন।
এছাড়া নগরীর টিচার ট্রেনিং কলেজের প্রশিক্ষনার্থীরা শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানান ও সাংসস সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে গত ১৩ মে শুক্রবার তাকে লাঞ্ছিত ,মারধর ও কানে ধরে উঠবস করানো হয় ।স্থানীয় সাংসদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই এই চূড়ান্ত অসভ্যতা, বর্বরতা ও বেআইনি ঘটনাটি ঘটে । পরে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে বরখাস্তও করে বিদ্যালয় কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রী বিদ্যালয় কমিটিকেই বাতিল ঘোষণা দিয়ে প্রধান শিক্ষককে বহাল রাখার ঘোষণা দেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ধর্মীয় কূটুক্তির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আপনার মন্তব্য