মাধবপুর প্রতিনিধি

২৭ মে, ২০১৬ ২০:০০

মাধবপুরে চমক দেখাতে পারেন বিদ্রোহীরা

শনিবার ১১ ইউনিয়নে নির্বাচন

রাত পোহালেই হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শেষ সময়ে প্রার্থীরাও বসে নেই। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোটারদের মন যোগাতে শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছে। নিজেদের যোগ্য প্রমান করতে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করছেন প্রাথীরা।

সব কটি ইউনিয়নের বইছে নিবাচনী উত্তাপ। লড়াই হবে সিয়ানে সিয়ানে। ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রাথীরা চমক দেখাতে পারেন। নির্বাচনকে সুষ্ট ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্গলা বাহিনী বদ্ধ পরিকর। কিন্তু তারপরেও স্বতন্ত্র ও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কাজ করছে আতংক। নির্বাচন সুষ্ট হবে কি না এই আশংকা করছেন অনেক প্রার্থী।

এবারের নির্বাচনে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন থেকে ৪০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং ৪৫০ জন সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। এবারে বহরা , আদাঐর, আন্দিউড়া, শাহজাহানপুর, বুল্লা, বাঘাসুরা , ছাতিয়াইন ৭ টি ইউনিয়নের রয়েছে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখন আওয়ামীলীগের গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রতিটি ইউনিয়নের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে কয়েকটি  ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা চমক দেখাতে পারেন।

অপরদিকে এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতিকে হওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। কারন মাধবপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন কে বিএনপির ঘাটি হিসাবে বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে চৌমুহনী, বহরা, আদাঐর, ইউনিয়নে রয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থী। এখানে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
 
চৌমুহনী থেকে ৩ জন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে দুইজন প্রার্থীর মধ্যে হবে শক্তিশালী লড়াই। কারন এই ইউনিয়নটি বিএনপির দূর্গ। সেই সুবাধে সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, অপরদিকে দূর্গ দখল করতে মরিয়া আওয়ামীলীগ প্রার্থী আপন মিয়া।

বহরা ইউনিয়ন থেকে ৪ জন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। তাদের সবাই স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী। তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আলাউদ্দিন ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আরিফুর রহমানের মধ্যে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নিবাচনী উত্তাপ। কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলতে নারাজ।

আদাঐর ইউনিয়নের ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ ফারুক পাঠান , আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (জহির), বিএনপির প্রার্থী মীর খুরশীদ আলম মধ্যে কঠিন লড়াই হবে । কারন এই ইউনিয়নের রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস। অপরদিকে জহিরুল ইসলাম জহির যে গ্রাম থেকে নির্বাচন করছেন সেই গ্রামে রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের বসবাস। যদি জহিরুল ইসলাম জহির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট তার বাক্সে নিতে পারেন তাহলে লড়াই হবে ত্রিমুখি।

বাঘাসুরা ইউনিয়নের ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামীলীগ প্রার্থী আলাউদ্দিন তালুকদার বেনু মিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শাহাব উদ্দিনের মধ্যে কঠিন লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা।

আওয়ামী লীগের ভোট যদি ভাগাভাগি হয় তাহলে কপাল খুলে যাবে বিএনপির প্রাথী মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ। গত নির্বাচনে মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদের আপন ভাই নৌশেদ চৌধুরী প্রার্থী হওয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন মনুর নিকট পরাজিত হন তিনি। এবার এই সমস্যাও নেই। তাই এই ইউনিয়ন গুলোতে নজর থাকবে সবার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত