০৯ জুন, ২০১৬ ০০:৪০
বানিয়াচং উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার বিএনপির ভরাডুবি ঘটেছে। ৬টি ইউনিয়নে প্রার্থীরা তাদের জামানত হারিয়েছেন। ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা হেরেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিংবা অল্প ভোটের ব্যবধান ঘটেনি।সবকটি ইউনিয়নে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.সাখাওয়াত হাসান জীবনের বাড়ি বানিয়াচং সদরে। দল মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী করতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এদিকে সৌদীআরব বিএনপি সভাপতি আহমেদ আলী মুকিব আবদুল্লাহ দল মনোনীত অনেক প্রার্থীকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করেছেন বলে অনেক নেতারা জানান। তবে বিগত নির্বাচনে ৩টি ইউনিয়নে জেতার প্রাপ্তিই ছিল দলটি ঝুড়িতে। এদিকে দলের বড় ধরনের বিপর্যয়ের ফলে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
তিনটি ধাপে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার শেষধাপে উপজেলা সদরের একটি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। এর আগে তৃতীয় ও পঞ্চমধাপে ১৪টি ইউপির নির্বাচন শেষ হয়। নির্বাচনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে ভোট কেন্দ্রে কোন ধরনের গোলযোগ হয়নি।
এই ১৫টি ইউপির মধ্যে ১০টি আ’লীগ, ৩টিতে বিএনপি, আর ২টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এদিকে বিএনপির এই ভরাডুবির ফলে পুরা উপজেলা জোরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.সাখাওয়াত হাসান জীবন ও সৌদীআরব বিএনপির নেতা আহমেদ আলী মুকিব আব্দুল্লাহ রয়েছেন আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন মধ্যম সারির নেতারা বলেছেন, এই দুই নেতার স্নায়ুযুদ্ধের কারণে দলীয় প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে ছিল অনেক ত্রুটি।এঘটনায় তৃণমুলে দলের সাংগঠনিক ভীত যে কতটা নড়বড়ে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিগত ইউপি নির্বাচনে। দলের এই পরাজয়ের পিছনে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্যকেই দুষছেন অনেক কর্মীসমর্থকেরা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বকুল কেন্দ্রীয় দু'নেতার সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল এমনটি মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, বেশীর ভাগ ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে বিএনপির নেতারা কাজ করেছেন।
আবার কেউ কেউ আঞ্চলিকতা ও আত্মীয়তার টানে অন্য প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছেন। এছাড়া প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ডে ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে যুক্ত করাটাও ছিল ভুল। এ পর্যায়ের অনেক নেতা আর্থিক সুবিধা নিয়ে অযোগ্যদের সমর্থন দেয়ায় যোগ্য নেতারা দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অনেক নেতাকর্মীরা জানান।
আপনার মন্তব্য