০৯ জুন, ২০১৬ ১৬:৪০
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহা. মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন ছাড়াই একাধিক রোগের ‘বিশেষজ্ঞ’ পদবী’র সাইনবোর্ডে ঝুলিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিষয়টি মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জনের নজরে আসলে তিনি মৌখিকভাবে সাইনবোর্ডটি সরানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু ৪ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে মিজানুর ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে প্রকাশ্যে হাসপাতালের ভিতর কোয়ার্টারে ভুয়া ‘বিশেষজ্ঞ’ পদবী’র সাইনবোর্ডে ঝুলিয়ে রেখেছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে মোহা.মিজানুর রহমান যোগদান করেন। গত ২২ মার্চ তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজস্ব মনগড়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জারি করে হাসপাতালে অরাজক পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
এসময় চিকিৎসা নিতে আসা বিক্ষুব্ধ রোগীদের তোপের মুখে পড়েন হাসপাতালের কর্মকর্তারা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরদিন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ওই সময় বিষয়টি সমাধান হয়।
এছাড়াও হাসপাতালের কোয়ার্টারে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রাইভেট চেম্বারে বসিয়ে ‘নাক, কান, গলা ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ’ উল্লেখ করে ভুয়া বিশেষজ্ঞ’র সাইনবোর্ড লাগিয়ে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটির অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান তিনি।
প্রতিদিনই বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি ওই চেম্বারে রোগী দেখেন তিনি। শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের খবর পেয়ে ১১ মে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনে আসেন। এসময় তাঁর চোখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বাসভবনে ভুয়া বিশেষজ্ঞ’র সাইনবোর্ডটি তাঁর নজরে পড়লে সেটি সরিয়ে ফেলতে তাকে নির্দেশ দেন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী ।
কিন্তু নির্দেশের ৪ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিনি সাইনবোর্ডটি সরাননি। উল্টো সাংবাদিকদের দম্ভোক্তি করে বলেন, কুলাউড়ায় আরও অনেক চিকিৎসক কোনো ডিগ্রি অর্জন ছাড়াই ‘বিশেষজ্ঞ’ পদবি ব্যবহার করছেন। এটা কি কারও চোখে পড়ে না।’ সিভিল সার্জনের মৌখিক নির্দেশ নয় লিখিত নির্দেশ পেলে আমি তা সরাব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী, নাক, কান ও গলা রোগে বিশেষজ্ঞ হতে হলে ‘ডিএলও অথবা এফসিপিএস (ফেলো অব কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস) ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। এ ছাড়া শিশুরোগে বিশেষজ্ঞ’র জন্য এফসিপিএস, মাস্টার্স অব মেডিসিন অথবা ডিপ্লোমা ইন চাইল্ড হেলথ ডিগ্রি থাকতে হয়। কিন্তু তিনি (মিজানুর) এ ধরনের ডিগ্রি ছাড়াই শুধুমাত্র এমবিবিএস, বিসিএস ও পিজিটি ডিগ্রি দেখিয়ে তাঁর সাইনবোর্ডে ‘নাক, কান, গলা ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ’ পদবী ব্যবহার করে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা।
হাসপাতালের একাধিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর এমন আচরণে হাসপাতালে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহা. মিজানুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী অস্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আমি তাকে নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু কেন তা মানেনি এটা আমার বোধগম্য নয়। আবার তাকে নির্দেশ দিব, না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আপনার মন্তব্য